‘একজন ১০টা ভোট দিলে আমাদের ভোটের অভাব হবে না’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২১
বক্তব্য দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহের

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমালোচনা করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহের বলেছেন, নৌকার মাঝি রাজাকার, নৌকা যাবে পাকিস্তান। একইসঙ্গে একজন ১০টি ভোট দিলে ভোটের অভাব হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মালাপাড়া ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঞার নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে একথা বলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহের। ওই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ভূঞা।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) মালাপাড়া ইউনিয়নসহ কুমিল্লার তিন উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

২ মিনিট ৩ সেকেন্ডের বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহেরকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন লোক যদি ১০টা ভোট দেন, তাহলে আমাদের ভোটের কোনো অভাব হবে না। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের কাছে বসে থাকবেন? হবে না। প্রত্যেকে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের জন্য বিনয়ীভাবে ভোট চাইতে হবে। তিনি শিক্ষিত লোক, আচার-আচরণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হারজিত চিরদিন থাকবে। ভয়ের কিছু নেই। যারা আমার নেতাকর্মীদের ভয় দেখান তাদের বুঝতে হবে জাহাঙ্গীর সাহেবের মতো যোগ্যপ্রার্থী ব্রাহ্মণপাড়ায় আরেকটা মেলাতে কষ্ট হবে।’

বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘ভুল করেছেন বারবার, ভুল করবেন না এবার। আমাদের এমপি মহোদয় জাহাঙ্গীর সাহেবকে নৌকা দিতে পারেনি। তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন। কুচক্রীমহল, চাঁদাবাজ এবং অবৈধ টাকার কারণে তিনি নৌকা দিতে পারেননি। আমরা প্রমাণ করে দেবো নৌকার মাঝি খারাপ। নৌকার মাঝি রাজাকার, নৌকা যাবে পাকিস্তান।’

এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘একসময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলাম। আমি নৌকার মনোনয়ন চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি ঘুস খেয়ে নৌকা দিয়ে দিছে চোরের হাতে। আমার তালিকা তারা কেন্দ্রে পাঠাননি।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহেরকে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ভূঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার জন্মও যুদ্ধের পরে। তাই রাজাকার হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দল আমার সাংগঠনিক কাজে সন্তুষ্ট হয়েই মনোনয়ন দিয়েছে। টাকা-পয়সা দিয়ে মনোনয়ন নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বক্তব্যটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি কেন জনসম্মুখে এমন বক্তব্য দিয়েছেন নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে তিনি বলেছেন, আমি বুঝাতে চেয়েছি একজনে ১০টা ভোট সংগ্রহ করবে, তাহলে আমরা বিজয়ী হতে পাবো। আমি ভোটচুরির কথা বলিনি।’

জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।