আ’লীগ নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও ভোট দেননি নৌকায়!
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কেন্দ্রে আশানুরূপ ভোট পায়নি নৌকা। এমনকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিরদাহ পিকুলের বাড়ির নিকটতম ও সহ-সভাপতির নিজস্ব কেন্দ্রে তার পরিবারের সদস্যদেরও ভোট পায়নি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
সচেতন মহল বলছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের কাদা ছোড়াছুড়ির কারণে হেভিওয়েট প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। নৌকার ভরাডুবির জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাই দায়ী।
চতুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহম্মদ রফিকুল ইসলাম চশমা প্রতীকে ৪,৫৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আলিমুজ্জামান পেয়েছেন ৪,২৬৬ ভোট। এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খোন্দকার মো. আবুল বাশার ৭১৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
কোনো কোনো কেন্দ্রে ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদেরও ভোট পড়েনি নৌকায়। কোনো কেন্দ্রের আওয়ামী লীগের ভোট দুই অঙ্কও স্পর্শ করেনি। অথচ প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫৫ জন। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আবুল বাশার মাত্র পাঁচ ভোট পেয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মলয় কুমার বোস ওই কেন্দ্রে ভোট দেন। তার পরিবারে ভোটার সংখ্যা ৬ জন। অথচ ওই কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ৫টি।
একই ইউনিয়নের শুকদেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম খান। ওই কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ১২টি। অথচ শুকদেবনগরে নজরুল ইসলাম খানের রয়েছে স্থানীয় বড় একটি গ্রাম্য দল।
বকুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ১০টি। ওই কেন্দ্রে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল সিকদার, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু এবং বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত মহম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোট দেন।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মলয় কুমার বোস বলেন, ওই ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একদিনের জন্যও নির্বাচনী ক্যাম্পে আসেননি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কাছ থেকে খরচ নিয়েছেন কিন্তু কাজ করেছেন চশমা প্রতীকের জন্য। আর আমার পরিবারের এক সদস্য বাড়িতে ছিলো না।
এ ব্যাপারে চতুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল খান বলেন, শুকদেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকায় পড়েছে মাত্র ১২ ভোট। গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যান ভিন্ন দলের কর্মীদের দিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নির্যাতন করেছে। একজন দশ কেজি বোঝা বহন করতে পারে! তাকে একশ কেজির বোঝা দিলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
এ ব্যাপারে চতুল ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার আবুল বাশার বলেন, নৌকা দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অসহযোগিতার কারণে আমি বিজয়ী হতে পারিনি। আমি এর আগে দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে একবার ১৪শ, আরেকবার ১৯শ ভোট পেয়েছিলাম। অথচ এবার নৌকা নিয়ে ৭শ ভোট পেলাম। এটা আমার জন্য দুর্ভাগ্য।
এ প্রসঙ্গে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএম মোশাররফ হোসেন বলেন, এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য এবং আমাদের ব্যর্থতা। নৌকার তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না আমার জানা নেই। আমরা হেরে গেছি এতটুকু জানি। এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।
এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম