চুরি হয়ে যাচ্ছে মিটার-ট্রান্সফরমার, সিরাজগঞ্জে বন্ধ ১৭ চালকল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২২
সিরাজগঞ্জে বিদ্যুতের মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি বেড়েছে

সিরাজগঞ্জে বিদ্যুতের মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি বেড়েছে। গত একমাসে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে ১২টি।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় কামারখন্দ উপজেলায় শিল্প মিটার চুরি হয়েছে ১৭টি। সর্বশেষ শনিবার (১ জানুয়ারি) রাতে কামারখন্দ থানার ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যেই চুরি হয়েছে ১৩টি মিটার। অন্য চারটি উপজেলার চর ধোপাকান্দি এলাকায়।

চুরি যাওয়া ১৭টি মিটারই চালকলের আর ট্রান্সফরমারগুলোর বেশিরভাগই সেচকাজের। চালকলগুলোর মিটার চুরি হওয়ায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে ধান সিদ্ধ করা থেকে শুরু করে চাল তৈরির সব ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চালকল মালিকরা।

কামারন্দ গ্রামের চালকল মালিক সাগর আলী জানান, দেড় বছর আগে মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি আবার মিটার চুরি বেড়েছে।

jagonews24

তিনি আরও জানান, তার মিটার চুরি করে নেওয়ার পর চোরচক্র মিটার ফ্রেমে একটি টোকেনে বিকাশ নম্বর রেখে যান। সেই নম্বরে পরদিন সকালে যোগাযোগ করা হলে চক্রের এক সদস্য বলেন, তারা এখন ঘুমাচ্ছেন। বিকেলে ফোন দেন।

‘বিকেলে ফোন করা হলে আমার তিনটি মিটারের জন্য মিটারপ্রতি ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। পরে প্রতিটি মিটারে তিন হাজার করে নয় হাজার টাকা দিলে চালকলের পাশের একটি বাড়ির পাশে বালুর ভেতরে মিটারগুলো রাখা আছে বলে জানায় চোর চক্রের সদস্য। পরে সেখান থেকে মিটার উদ্ধার করা হলেও বিদ্যুতের সংযোগ না পেয়ে এখন বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে।’

মেসার্স আজাহার চালকলের ম্যানেজার মো. জিন্নাহ বলেন, বিদ্যুতের লাইন চালু থাকা অবস্থায় সাধারণ মানুষের পক্ষে মিটার চুরি করা সম্ভব নয়। পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানদের সঙ্গে বাইরের শ্রমিক যারা কাজ করেন। তারা মিটার চুরির সঙ্গে সম্পৃৃক্ত থাকতে পারেন।

কামারখন্দ উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের চালকল মালিক রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এর আগেও মিটার চুরি হয়েছে। আবার নতুন করে মিটার চুরি শুরু হয়েছে। যদিও আমার মিটারটি অক্ষত আছে তবুও আতঙ্কে আছি কখন যেন আমার মিটারটিও চুরি হয়ে যায়। মিটার চুরি ঠেকাতে রাতজেগে পাহারা দিতে হচ্ছে।’

jagonews24

এ বিষয়ে কামারখন্দ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহীনুর কবীর বলেন, মিটার চুরির বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এর আগেও মিটার চোরচক্রের চারজন সদস্যকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পর গত প্রায় দুই বছরে মিটার চুরির ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি মিটার চুরির অভিযোগ পেয়েছি। আগের মতো এবারও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অখীল কুমার সাহা জানান, কামারখন্দের ১৭টি মিটার চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মিটার চুরি রোধে মাইকিং করাসহ লিফলেট বিতরণ ও গ্রাহকদের মিটার পাহারা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।