১০ কেজি চালের জন্য খুন, কারাগারে যুবক
বরগুনার আমতলীতে নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাগর মুন্সিকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার সাগর মুন্সি আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামের আলানুর মুন্সির ছেলে। ১০ কেজি চাল ধারের ঘটনায় কথা-কাটাকাটির জেরে তিনি নুরুল ইসলামকে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামের আলেয়া বেগম (৬০) তার চাচাতো ভাসুরের ছেলে নুরুল ইসলাম মুন্সির স্ত্রী রানী বেগমের কাছ থেকে ২০২০ সালে ১০ কেজি চাল ধার নেন। ওই চাল এক বছর ধরেও পরিশোধ করেনি আলেয়া বেগম। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।একপর্যায়ে আলেয়া বেগম তার ছেলে আলানুর, জামাতা খলিল সিকদার, মেয়ে খালেদা ও আসমাকে ডেকে আনেন। এসময় আলেয়ার নাতি সাগর মুন্সি নুরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নুরুল ইসলাম মুন্সির স্ত্রী রানী বেগম বলেন, ‘গতবছর চাচি আলেয়া বেগম আমার কাছ থেকে ১০ কেজি চাল ধার নেন। ওই চাল এক বছরেও তিনি পরিশোধ করেননি। ধারের ওই চাল আমি ফেরত চাইলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা আমার স্বামীকে ছুরি মেরে হত্যা করেন। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাগর মুন্সিকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে আমতলী থানায় আনা হয়। বুধবার দুপুরে তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহতের ছেলে আলীম বাদী হয়ে সাগর মুন্সিসহ সাতজনকে আসামি করে আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত আলানুর মুন্সি ও তার মা আলেয়া বেগম, বোন খালেদা ও আসমাকে আগেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে আলানুর মুন্সি ছাড়া আলেয়া বেগম, বোন খালেদা ও আসমা জামিনে রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি সাগর মুন্সি পলাতক ছিলেন।
এসআর/জিকেএস