শরীয়তপুরে ভোটকেন্দ্রে গুলি-আগুন, আহত ১০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২২
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্র

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভোটকেন্দ্রে গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) উপজেলা দুলুখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক কাজী মনিরুজ্জামান, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি শরীফুল আলম ইমন ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাকারিয়া মাসুদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, সকালে নড়িয়ার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন শহীদুল ইসলাম শিকদার (আনারস), এমদাদ শিকদার (ঘোড়া), রুনা আক্তার (টেলিফোন), দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী (চশমা), এনামুল হক ব্যাপারী (মোটরসাইকেল), শাহীন হাওলাদার (হাতপাখা) ও আলাউদ্দিন ছৈয়াল (লাঙ্গল)।

দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের চাচাত ভাই।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে দুলুখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা করে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকরা। তারা ককটেল বোমা হামলা ও গুলি করে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর ভোটকেন্দ্র দখল করে তিনটি ভোটবাক্স, তিন হাজার ব্যালট ও নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এরপর বাহির থেকে দরজা আটকে দিয়ে ভোটকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নারী আনসার সদস্য তরিকত নেছা বলেন, ‘বোমা ও গুলির কারণে কেন্দ্রের ভেতর আশ্রয় নেই। পরে ভোটবাক্স, ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার পর স্কুল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের মারধর করে গায়ের গহনা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী ইকবাল শিকদার বলেন, ‘হামলার সময় কেন্দ্রের মধ্যে আটকা পড়ি। বাইরে থেকে কক্ষ আটকে আগুন ধরিয়ে দিলে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পরি। জানালা ভেঙে ভবন থেকে বের হয়ে প্রাণে বাঁচি।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদুল ইসলাম শিকদার (আনারস) বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকরা ভোট বানচাল করার জন্য তিনটি কেন্দ্রে হামলা চালায়। সকাল থেকে ককটেল হামলা করে আতঙ্ক ছড়ায়। দুপুরের দিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে চায়।’

অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর (চশমা) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাতিজা ইমরান ব্যাপারী বলেন, ‘ওইখানে মেম্বার প্রার্থী দেলোয়ার মেম্বার ও ইমরান শেখের পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব চলছে। তাই আজ ওরা সংঘর্ষে জড়ায়। যেহেতু কেন্দ্রটি আমাদের বাড়ির সামনে, চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে সংঘর্ষের মানেই হয় না।’

নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি সংকর কর বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পরবর্তী সময় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’

মো. ছগির হোসেন/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।