৭০ টাকার ইনজেকশন চিকিৎসক নেন ৩০০০!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
ভুক্তভোগী আবদুর রাজ্জাক ও রিয়াজুল ইসলাম, ইনসেটে সাইনোকর্ট ইনজেকশন

বরগুনায় ৭০ টাকার একটি ইনজেকশন তিন হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। আবদুর রাজ্জাক ও রিয়াজুল ইসলাম নামের দুই ভুক্তভোগী এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মো. শিহাব উদ্দিন শিহাব। তিনি বরগুনার ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে মাসে দুইবার রোগী দেখেন। তিনি বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে বরগুনা প্রেস ক্লাবে চিকিৎসক শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন আবদুর রাজ্জাক ও রিয়াজুল ইসলাম নামের দুই ভুক্তভোগী। তাদের অভিযোগ, সাইনোকর্ট (Cynocort) নামের ৭০ টাকার ইনজেকশন তাদের কাছে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনজেকশটির দাম ৭০-৭৫ টাকা।

অভিযোগকারী আবদুর রাজ্জাক বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলা এলাকার বাসিন্দা। অন্য অভিযোগকারী রিয়াজুল ইসলাম সদর উপজেলার কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। তার মেরুদণ্ড এবং পায়ে ব্যথা। শনিবার বিকেলে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে যান। সেখানে ৬০০ টাকা ভিজিট দিয়ে চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন শিহাবকে দেখান। তিনি দুটি এক্স-রে এবং রক্তের জন্য তিনটি টেস্ট দেন। এগুলোর পেছনে ব্যয় হয় ১ হাজার ৮০০ টাকা।’

এরপর রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি ওই নারীকে সাইনোকর্ট নামের একটি ইনজেকশন পুশ করার কথা বলেন। ইনজেকশনটির দাম তিন হাজার টাকা উল্লেখ করে পুশ করার জন্য কোনো চার্জ দিতে হবে না বলে জানান। আবদুর রাজ্জাক ইনজেকশনটি বাইরে থেকে কিনে পুশ করতে চান। এতে রাজি হননি চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন। পরে বিকাশে তাকে তিন হাজার টাকা পাঠালে তিনি ইনজেকশন পুশ করেন। পরে আব্দুর রাজ্জাক ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ইনজেকশনটির দাম ৭০ টাকা।

রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার স্ত্রীর বোনকে চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন শিহাবের কাছে দেখাতে নিয়ে যান। তিনি একটি এ-ক্সরেসহ চারটি টেস্ট দেন। পরে রিপোর্ট দেখালে তিনি সাইনোকর্ট ইনজেকশন পুশ করতে বলেন। চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন ইনজেকশনটি পুশ করেন এবং তিন হাজার টাকা দেন। পরে ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনিও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ‘সাইনোকর্ট নামের ইনজেকশনটির দাম কম। বাইরে এটি ৫০০-৬০০ টাকায় পুশ করা হয়। তবে এটি পুশ করতে সিনিয়র চিকিৎসকরা তিন হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। আবার গরিব রোগীদের ফ্রিতেও পুশ করা হয়।’

ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘সাইনোকর্ট ইনজেকশনটির দাম ৭৫ টাকা। এটার দামসহ পুশ করার জন্য চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন শিহাব তিন হাজার টাকা নেন। এই ইনজেকশন তার কাছেই থাকে। এই ইনজেকশনের কথা ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করা হয় না। তবে এই টাকার কোনো ভাগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পায় না।’

এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখবো। অভিযোগের যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]