নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২২
হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহতরা

নরসিংদীর মাধবদীতে পূর্ব শত্রুতা জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের মাটিয়ালকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, নুরালাপুর ইউনিয়নের মাটিয়ালকান্দা ও শ্যামতলী গ্রামের মধ্যে একটি ঈদগাঁ মাঠ নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে ২০১৭ সালে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গ্রামবাসী থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে। শ্যামতলী গ্রামের দায়ের করা মামলায় আসামি ছিলেন নুরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান ভূঞা, তার ভাই আকবর, নাসির , ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হারুন মেম্বারর তার ভাই আজহার।

মামলার আসামির তালিকা থেকে সাদেকুর ও তার ভাইদের নাম বাদ গেলেও নাম থেকে যায় হারুন ও তার ভাই আজহারের। পরে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মামলায় দুই পক্ষই আপসে যায়। সেই মামলার নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের বিরোধ শুরু হয় সাদেকুর রহমান ও হারুন মেম্বারের মধ্যে।

এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে দুপক্ষই দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মাটিয়াল কান্দা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হারুন মেম্বারসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আহত মেহেদির বাবা হারুন মেম্বার বলেন, মামলার নিয়ে কেন আপসে গেলাম এ কারণে সাদেকের ভাই আকবর ও তার লোকরা আমাকে কয়েকবার রাস্তায়ও আটকানো হয়। তাদের মামলায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই টাকা আমার কাছে দাবি করে। আজকেও দুপুরে বাড়িতে যাওয়ার সময় তারা আমাকে ডাক দেয়। আমি সাড়া না দিয়ে বাড়িতে চলে যাই। পরে সাদেক চেয়ারম্যান গ্রুপের সুমন, সুজন, নাসিরসহ আরও কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার ছেলেকে গুলি করে তারা।

নুরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান ভূঞার ছোট ভাই নাসির ভূঞা বলেন, হারুন মেম্বারের বাড়ির পাশ দিয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে হয়। আজকে ওরা আমাদের আটকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আমাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছে।

নুরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মাজারুল ইসলাম বলেন, মেহেদি নামে ওই যুবকের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানি আমি। এছাড়া দুপক্ষের প্রায় চার-পাঁচজন আহত হয়েছে।

নুরালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম বলেন, এখন কোনো ঝামেলা নেই। এলাকায় পুলিশ আছে। পরিবেশ এখন শান্ত।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আসাদ আবদুল্লাহ খান জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে মারামারিতে আহত বাবা-ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। ছেলের ডান পায়ে একটা ক্ষত আছে। কিন্তু এটা আসলেই গুলি কি না তা নিশ্চিত নই এখনো।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের দাবি গুলি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ভেতরে ও এক্সরে রিপোর্টে কোনো গুলি পাইনি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, দুই পক্ষের মারামারি হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। কিন্তু কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছে এমন শুনিনি আমি।

সঞ্জিত সাহা/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]