যেখানে মিতালি হয় মানুষ আর বুনো শালিকের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:১০ এএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২২

কিচিরমিচির শব্দ। সুমধুর সুর। পূর্ব দিগন্তের ভোরের আলো ফুটতেই হাজির ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক। অগণিত শালিকের কলকাকলিতে মুখর পুরো এলাকা। এ দৃশ্য ফরিদপুরের সদরপুরে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরিফে। দেশি শালিক পাখির আনাগোনায় জায়গাটি পরিণত হয়েছে পাখিদের অভয়ারণ্যে। খাবারের লোভে মানুষের কাছে ছুটে আসে শত শত শালিক পাখি। সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন রকমের আমেজ আর রূপ।

মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বুনো শালিকও ভয়কে জয় করে মানুষের কাছে ছুটে আসছে। শালিক আর মানুষের ভালোবাসার এমনই ভিন্ন এক নজির সৃষ্টি করেছে এখানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরিফ এখন যেন পাখিদের অভয়ারণ্য। অন্যান্য পাখির সংখ্যা কম। শালিক পাখির সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় অসংখ্য শালিক পাখি বিচরণ করছে। প্রতিদিন ভোর হলেই খাবার খেতে দল বেধে ছুটে আসে শত শত শালিক। আর ওই পাখিদের মহা আনন্দে খাবার খাওয়ানোর জন্য ছুটে আসে প্রকৃতি প্রেমীরা। স্থানীয়রাও আদর করে খেতে দেয় শালিকদের। এ

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীতের কুয়াশা ভেদ করে পূবের লাল সূর্য তখন উঁকি দিচ্ছে। আটরশি দরবার শরীফের রাস্তাগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানুষের ভিড় বাড়ছে। দল বেধে রাস্তায় উড়ে আসছে শত শত বুনো শালিক। বিদ্যুতের তার, খুঁটি, দোকান ঘরের টিনের চালা, গাছ-পালায় সারি বেধে বসছে তারা। ধীরে ধীরে আটরশির পুরো চত্বরে মানুষ আর শালিকের আনাগোনা বাড়তে থাকে।

এরইমধ্যে প্রকৃতি ও পাখিপ্রেমী হাওলাদার শামীম আহমেদ নামের এক যুবক মুঠো মুঠো চানাচুর আর পাওরুটির টুকরো ছড়িয়ে দেন ব্যস্ত রাস্তার ওপর। মুহূর্তেই বিদ্যুতের তার আর দোকানের চাল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক উড়ে এসে মহাভোজে যোগ দেয় মনের আনন্দে।

যেখানে মিতালি হয় মানুষ আর বুনো শালিকের

এ ব্যাপারে সদরপুরের বাসিন্দা সংবাদকর্মী তানভীর তুহিন জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ এখানে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয় দোকানদাররা ও আগত মানুষেরা এভাবেই খাবার খাইয়ে পাখিগুলোর বন্ধু হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন ভোরে এমন এক নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করেন আটরশি চত্বরের দোকানি আর পথচারী সাধারণ মানুষ।

প্রকৃতি প্রেমী হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, প্রতিদিন এখানে খাবার খাওয়ানোর কারণে দিন যত যাচ্ছে পাখির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। প্রকৃতির প্রতি এবং পাখিদের প্রতি যদি ভালোবাসা রাখা যায় তবে প্রকৃতিটা সুন্দর থাকবে।

সাংবাদিক সোবাহান সৈকত বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। পাখিরা যেহেতু কোনো ক্ষতি করে না সেহেতু এদেরকে বাঁচিয়ে রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

এ ব্যাপারে সদরপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোবাহান জাগো নিউজকে বলেন, বাংলা ১৩৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ। সে হিসাবে প্রায় প্রতিষ্ঠানটির বয়স ৭৪ বছর। এখানে সবকিছুর জন্যই রয়েছে ভালো পরিবেশ। শুরু থেকেই সারা বছরই নানা জাতীয় দেশি পাখির আনাগোনা থাকে। আর এই বুনো শালিক পাখির ঝাঁকের দেখা মিলছে মূলত করোনার শুরুর দিক থেকে। প্রতিদিনই যেন শালিকের সংখ্যা ও ভিড় বাড়ছে। আশপাশের কোথাও এদের কোনো দেখা না মিললেও এখানে যেন ওরা ফিরে পেয়েছে তাদের আপন ভুবন।

যেখানে মিতালি হয় মানুষ আর বুনো শালিকের

এ ব্যাপারে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, ভালোবাসার বিনিময়ে অনেক কিছুই জয় করা সম্ভব। সেই ভালোবাসারই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে এখানে। পাখিদের সঙ্গে মানুষের যেন মিতালি আর সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। এই সেতুবন্ধন টিকে থাক বছরের পর বছর৷

এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুদেব কুমার দাস জাগো নিউজকে বলেন, শালিক পাখিও পোষ মানে। এরা মানুষের ভাষা বোঝে। মানুষের সঙ্গে মিতালি করে। শালিক পাখির বিলুপ্তি রোধে প্রজনন ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]