নবজাতকের হাড় ভাঙার ঘটনায় ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
ফরিদপুরে নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙে ফেলার ঘটনায় বেসরকারি আরামবাগ হাসপাতালের মালিক ও তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে নবজাতকের বাবা আরিফুল আলম সজল বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় আরামবাগ প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ আলম, কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জুই, চিকিৎসক প্রিন্স ও চিকিৎসক রাজিবসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শারমীন সুলতানা জুই ওই হাসপাতালের সাইনবোর্ড ও ভিজিটিং কার্ডে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দিলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক নন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রসূতি মুক্তা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এবং অবহেলা করায় তার নবজাতকের ডান হাতের হাড় ভেঙে গেছে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে সিজারিয়ান অপারেশন করে নবজাতকের হাড় ভেঙে দিয়েছেন। প্রতিকার চাইলে তারা উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমানের কাছে আরিফুল আলম সজল একটি লিখিত অভিযোগও দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ ডিসেম্বর আরামবাগ হাসপাতালে তার স্ত্রী মুক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এ সময় নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙে ফেলেন চিকিৎসকরা। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ জানুয়ারি দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার আরামবাগ হাসপাতালে অভিযান চালান। এ সময় তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান সিভিল সার্জন।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস