ফরিদপুরে সেই আরামবাগ হাসপাতাল ফের চালু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২২

নবজাতকের হাতের হাড়ের জোড়া ভেঙে ফেলার ঘটনায় ফরিদপুরের আরামবাগ প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় সিভিল সার্জন। কিন্তু বন্ধ করার দিন বিকেল থেকেই ফের চালু করা হয়েছে হাসপাতালটি।

জানা গেছে, ১৩ ডিসেম্বর এক নবজাতক ভূমিষ্ঠের সময় হাতের হাড়ের জোড়া ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ জানুয়ারি নবজাতকের বাবা আরিফুল আলম ওরফে সজল জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি আরামবাগ হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধের কারণ হিসেবে সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান ওই সময় বলেন, হাসপাতালটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট। এ জাতীয় হাসপাতাল পরিচালনায় তিনজন চিকিৎসক ও ছয়জন স্টাফ নার্স নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু অভিযানকালে মাত্র একজন চিকিৎসক ও তিনজন স্টাফ নার্স পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, এ জাতীয় হাসপাতাল পরিচালনায় প্রচলিত নিয়ম মেনে সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্ধ করার দিন বিকাল থেকেই পুনরায় হাসপাতালটি চালু করা হয়। পরে ২১ জানুয়ারি পুলিশের একটি টিম হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২২ জানুয়ারি থেকে পুনরায় হাসপাতাল চালু করে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সেটি চালু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন আরামবাগ হাসপাতালের চেয়ারম্যান আবদুত তাওয়াব। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব লোকমান হোসেন আমার পরিচিত। তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তবে তিনি দাবি করে বলেন, তবে সহকারী সচিবের কথায় হাসপাতালটি চালু করা হয়নি। সিভিল সার্জন যেসব শর্ত দিয়েছিলেন তা পূরণ করা হয়েছে। পরে সিভিল সার্জনের মৌখিক নির্দেশে হাসপাতালটি পুনরায় চালু করেছি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সচিবের নামে ফোন করা হলেও লিখিত কোনো নির্দেশ পাইনি। হাসপাতাল চালুর জন্য মৌখিক নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তাহলে হাসপাতাল কিভাবে চালু হলো প্রশ্ন করা হলে সিভিল সার্জন বলেন, এ ব্যাপারে কিছু বলার নেই।

এদিকে নবজাতকের হাতের হাড়ের জোড়া ভেঙে ফেলার ঘটনায় আরামবাগ হাসপাতালের মালিক ও চিকিৎসকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ২২ জানুয়ারি নবজাতকের বাবা আরিফুল আলম ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল জলিল জানান, মামলায় আরামবাগ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ (৫৫), কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমীন সুলতানা জুই, এনেসথেসিয়া ডা. প্রিন্স, ডা. রাজিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]