গৃহহীনদের ঘর তৈরির বালু তোলা নিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৫০
কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বিল থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ভৈরব উপজেলার আকবরনগর গ্রাম ও কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতি ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের বাসিন্দার সঙ্গে এ সংঘর্ষ হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
আহতদের মধ্যে আবু সালাম (৩১), মো. সফিকুল ইসলাম, (৪১) রফিকুল ইসলাম (৪৮), মোছা. স্বপ্না বেগম (৩৮) ও রাব্বি মিয়ার (১৬) নাম জানা গেলেও অন্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতি ইউনিয়নের নন্দরামপুর গ্রামে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য একটি সরকারি জলাশয় ভরাটের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। ফলে জলাশয়টি ভরাটের জন্য বিল থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে আকবরনগর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মাধবদী গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভৈরব কুলিয়ারচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) রেজওয়ান দীপু, কুলিয়ারচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়াত ফেরদৌসি, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ভৈরব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুলাহাস হোসেন সৌরভ।
আকবরনগর গ্রামের লোকজনের দাবি, তাদের ফসলি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে জোরপূর্বক বালু তোলা হচ্ছিল। এ নিয়ে দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মাধবদী গ্রামের আহত রাব্বি মিয়া বলেন, গ্রামের বিল থেকে অসহায়দের ঘর বানানোর জায়গায় চেয়ারম্যান ইকবাল বিলের একটি খাস জমি থেকে বালু তুলতে গেলে পার্শ্ববর্তী আকবরনগর গ্রামের লোকজন বাধা দেন। তারা বালু তুলতে প্রতি ফুটে এক টাকা দাবি করেন। এ দাবি মেনে না নেওয়ায় আকবরনগর গ্রামের লোকজন চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালান। পরে তাকে রক্ষা করতে মাধবদী গ্রামের লোকজন ছুটে যান। এক পর্যায়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্য সংঘর্ষ ঘটে ।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়াত ফেরদৌসি জাগো নিউজকে বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে নন্দরামপুর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ করার জন্য বালু উত্তোলন করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল ভৈরবের লোকজনের দাদি এগুলো তাদের। আমরা আবার বসে আলোচনার মাধ্যমে এই বিবাদ সমাধানের ব্যবস্থা করেছি।
এ বিষয়ে ভৈরব কুলিয়ারচর সার্কেলের এএসপি রেজওয়ান দীপু জাগো নিউজকে বলেন, যেহেতু দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনটি দুটি থানার সংযোগ স্থলে সংঘটিত হয়েছে, সেহেতু ভৈরব ও কুলিয়ারচর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে থামায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা বুলেট নিক্ষেপ করে।
এসজে/জেআইএম