উদ্ধার হওয়া ১৫০ একর বনভূমি এখন সবুজের সমারোহ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে

গাজীপুরে ৬ হাজার ৭৯৬.৩৯ একর বনভূমি নিয়ে রাজেন্দ্রপুর ফরেস্ট রেঞ্জ। জেলায় ছয়টি ফরেস্ট রেঞ্জ বা অঞ্চলের মধ্য শীর্ষ জবরদখলপ্রবণ রেঞ্জ হিসেবে এক সময় খ্যাত ছিল রাজেন্দ্রপুর। তবে গত কয়েকবছর ধরে বন বিভাগের উদ্যোগে বনায়ন কার্যক্রম, জবরদখল উচ্ছেদ ও জবরদখল প্রতিরোধ অব্যাহত থাকায় সবুজে সাজছে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের বিস্তীর্ণ বনভূমি।

বিগত ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ অর্থ বছরেই রেঞ্জটির বিভিন্ন বিটে ১৫০ একর বনভূমি জবরদখল থেকে উদ্ধার করে স্বল্প মেয়াদী মিশ্র প্রজাতির বাগান সৃজন করেছে ঢাকা বন বিভাগ।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জে শীর্ষ জবরদখলপ্রবণ বিট হিসেবে খ্যাত ছিল সদর বা পূর্ব বিট। অথচ সেই বিটের বনভূমি এখন বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছে সেজেছে। রেঞ্জটির বিভিন্ন বিটে শাল কপিচ ব্যবস্থাপনার সুফল এখন দৃশ্যমান হয়েছে। এর পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগী নিয়োগের ফলে একদিকে যেমন জবরদখল চেষ্টা প্রতিহত হচ্ছে, অন্যদিকে অর্জিত হচ্ছে সরকারি রাজস্ব।

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জে সর্বমোট ২৫ একর বনভূমি উদ্ধার করে রাজস্ব খাতে স্বল্প মেয়াদী মিশ্র প্রজাতির বাগান সৃজনের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা বন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় জবরদখল উদ্ধারে কৃষি জমি হিসেবে ব্যবহৃত বনভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে অগণিত উচ্ছেদ মোকদ্দমাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় বনে জবরদখল উচ্ছেদে বিলম্ব হচ্ছে। এতে মূল্যবান বনভূমি বনায়নের আওতায় আনতে পারছে না ঢাকা বন বিভাগ। এর পাশাপাশি গত কয়েক দশক ধরে রেঞ্জটিতে চলমান ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার ফলে বেহাত রয়েছে বিস্তীর্ণ বনভূমি।

সুফল প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের ১৫৫ হেক্টর বনভূমিতে বিভিন্ন শ্রেণির বাগান সৃজিত হয়েছে। এর পাশাপাশি একই অর্থবছরে ১০০ হেক্টরে শাল কপিচ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রেঞ্জটিতে ২৮০ হেক্টরে বিভিন্ন শ্রেণির সুফল বাগান এবং ২০০ হেক্টরে শাল কপিচ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে। চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে রেঞ্জটির ৬০ হেক্টর বনভূমিতে সুফল প্রকল্পের আওতায় বনায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন নার্সারিতে উত্তোলিত চারা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে বাগান মালিরা।

shri-(2).jpg

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়নপুর বিটের ডেফুলিয়া গ্রামের স্থানীয় অধিবাসী শারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামটিতে জোত ভূমি সংলগ্ন বনভূমি বিগত দিনে কৃষি জমি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে বন বিভাগ বনের জমি চিহ্নিত করে মিশ্র প্রজাতির বাগান সৃজন করেছে। এসব বাগানের সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে।

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিগত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রেঞ্জটি থেকে ১ কোটি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪২১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে করোনা কালেও ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯২ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৭১৩ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, গাজীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে শালবন। জেলার প্রতিটি রেঞ্জেই ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার ফলে বেহাত বনভূমি উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। এর পাশাপাশি দ্রুত সময়ে উচ্ছেদ মোকদ্দমাগুলোর নিষ্পত্তি হলে বনভূমি বনায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প অধ্যুষিত ও ঘনবসতিপূর্ণ জেলা গাজীপুর। গাজীপুরে স্বল্প জনবল দিয়ে বিস্তীর্ণ বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণ ও বনায়ন চ্যালেঞ্জিং। এছাড়া গাজীপুরের বনভূমি বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। এককভাবে শুধুমাত্র বন বিভাগের জনবল দিয়ে বনভূমি রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার।

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।