সৈকতের বনে পোড়া গাছ, কারণ জানা নেই বনবিভাগের

আসাদুজ্জামান মিরাজ আসাদুজ্জামান মিরাজ , উপজেলা প্রতিনিধি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৯:০২ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
বনের ভেতরে মরা গাছগুলো পোড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের গঙ্গামতি পয়েন্ট এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিশাল একটি অংশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মারা যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলোর মধ্যে অনেক গাছই পোড়ানো দেখা যায়। কিন্তু কে বা কারা এই গাছ পুড়িয়েছে তা জানা নেই বনবিভাগের।

এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলের মানুষের জানমাল রক্ষায় দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন পরিবেশ কর্মীরা।

jagonews24

গঙ্গামতি সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, মারা যাওয়া গাছগুলোর মধ্যে অনেক পোড়া গাছের গোড়া পড়ে আছে, আবার কিছু গাছ অর্ধেক পোড়া অবস্থায় আছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জেলেরা বলছেন, হঠাৎ গাছগুলো পোড়া দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা এই গাছ পুড়িয়েছে তা আমরাও জানি না।

jagonews24

গঙ্গামতি এলাকার ষাটোর্ধ্ব ফজলু হাওলাদার জাগো নিউজকে জানান, এক সময় মানুষ বন থেকে গাছ চুরি করে নিতো, কিন্তু এখন আর সেরকম কিছু হয় না। কয়েক বছর যাবৎ জঙ্গলের গাছ মারা যাচ্ছে। বড় গাছগুলো অনেকদিন আগে মরে যাওয়ায় ভেঙে ও পঁচে যাচ্ছে। তাই এলাকার জেলেরা মাঝে মাঝে সেই পড়ে থাকা গাছগুলো নিয়ে গিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে এই গাছগুলো কারা পুড়িয়েছে তা আমরা জানি না। কাউকে কখনো পোড়াতে দেখিনি।

বনবিভাগের তথ্যমতে, বছরে লেম্বুরবন, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটা এলাকার প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে ঝাউ, কেওড়া, বাইন, ইউক্লিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনায়ন করা হয়। তবে তাদের দাবি কিছু ঝাউগাছ ব্যাতীত অনেক গাছই বিভিন্ন ঝড়ে বিলীন হয়ে গেছে।

jagonews24

বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, মারা যাওয়া গাছগুলো কিভাবে পুড়েছে তা আমাদের জানা নেই। পোড়া গাছগুলো আমাদের নজরে আসার পর আমরা চেষ্টা করছি এর কারণ বের করার।

তিনি আরো জানান, গাছগুলো অনেকদিন আগে মরার কারণে নষ্ট হচ্ছিলো। তাই হয়তো সমুদ্রগামী জেলেরা শীতকালীন সময়ে তাপ নিতে মরা গাছে আগুন জ্বালাতে পারেন।

jagonews24

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কলাপাড়া জোনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মাননু জাগো নিউজকে বলেন, এর দায় বনবিভাগ এড়িয়ে যেতে পারে না। কারণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনবিভাগের। যদিও মরা গাছে আগুন দেওয়া হচ্ছে তার মানে অবশ্যই তার পাশে থাকা তাজা গাছগুলোরও ক্ষতি হচ্ছে। এটা আমাদের পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

এই পরিবেশবিদ আরো বলেন, বনবিভাগের উচিৎ শিগগিরই যে সকল দুষ্কৃতকারীরা বন উজাড়ের চেষ্টা করছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, যাতে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হয়।

এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।