বিক্রি করতে গিয়ে ধরা চোর, বেরিয়ে এলো ২০ চোরাই গরু
চোরাই গরু জয়পুরহাট জেলা সদর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন চোরের দল। কিন্তু মাঝপথে একটি বাজারের পাশে চোরেরা গরু বহনের ভটভটি থামান। এতেই ঘটে বিপত্তি। কে জানতো গরুর মালিক পথেই তার গরুর দেখা পাবেন। এ সময় চোরদের কাছে থাকা ২০টি গরু ও একটি ছাগল উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ঝাঁপড়িতলা মোড়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গরুর মালিক হলুদবিহার গ্রামের গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (৫৫), তার ছেলে আব্দুস সবুর ওরফে সবুজ (২৪), জাকির হোসেনের বিয়াই কোলা গ্রামের আলীমুদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন (৪৫) এবং জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার বিহারপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে তানজিদ হোসেন (২০)।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস থেকে বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির প্রবণতা বেড়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের জাকির হোসেন ও তার ছেলে আব্দুস সবুর ভটভটি যোগে জয়পুরহাট জেলা সদর হাটে পাঁচটি গরু বিক্রি করার জন্য যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা ভটভটিটি ঝাঁপড়িতলা মোড়ে থামান।
বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের হলুদবিহার গ্রামের এক গৃহবধূ এক সপ্তাহে আগে তাদের হারিয়ে যাওয়া গরু ভটভটিতে দেখতে পান। গৃহবধূ গরুটি তাদের দাবি করে জাকির হোসেনের সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন গরুটি শনাক্তের জন্য আটকে দেন। গৃহবধূ তার শ্বশুর গোলাম মোস্তফাকে অবগত করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার গরুটি শনাক্ত করেন।
এ সময় জাকির বিপদে পড়ার আশঙ্কায় বাড়িতে ফোন করে অন্যান্য গরুগুলো লুকিয়ে ফেলতে বলেন। ঘটনার পরই জাকিরের বাড়ি ঘিরে ফেলে গ্রামবাসী। খবর পেয়ে থানা পুলিশ জাকিরের বাড়িসহ আশপাশে আরো কয়েকটি বাড়ি তল্লাশি করে ১৪টি গরু ও একটি খাসি ছাগল উদ্ধার করে। এ সময় তাদের বাড়ি থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আরো ৬টি গরু উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া একটি গরুর মালিক হলুদবিহার গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমার একটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে ঝাঁপড়িতলা এলাকায় গিয়ে চুরি হওয়া গরুটি দেখতে পাই। গরুটি ভটভটি থেকে নামানোর পর বদলগাছী থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ আমার গরুসহ আরও ১৪টি গরু জাকির হোসেন ও তার বিয়াইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, জাকির হোসেন ও তার ছেলে আব্দুস সবুর এবং জাকির হোসেনের বেয়াই রুহুল আমিন প্রকৃতপক্ষে চোর। তারা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন এলাকায় চুরি করতো। এমনকি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও জানতে পেরেছি। জাকির হোসেনের আরো দুই ছেলে ব্রাহ্মণবাড়িতে গাঁজাসহ আটক হয়েছে। তারা গরুর ব্যবসা করে না। কিন্তু তাদের বাড়িতে গরু রাখার গোয়াল ঘর আছে।
তিনি বলেন, আমি এলাকাবাসীকে বলেছি যে বাড়িতে চোরাই গরু পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আমার ইউনিয়নে কোলা ও ভান্ডারপুর হাটে রাতে গরু জবাই করা হয়। আজ (শনিবার) ঘোষণা দিয়েছি সূর্য ওঠার আগে কেউ যেন পশু জবাই না করে। যদি কেউ এমন করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ২০টি গরু ও ১টি ছাগল উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। গরু চুরি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
আব্বাস আলী/এফএ/এমএস