যশোরে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২২
অঝোরে কান্না করছেন নবজাতকের মা

যশোর পৌরসভার শিশু হাসপাতাল থেকে আব্দুর রহিম নামে আটদিন বয়সী এক নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। নানির সঙ্গে গল্প জমিয়ে ওই শিশুকে নিয়ে চম্পট দেন অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী।

রোববার (৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া নবজাতক আব্দুর রহিম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মেহেদী হাসানের ছেলে।

রহিমের মা আসমা খাতুন জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের একটি হাসপাতালে সিজারে শিশুটির জন্ম হয়। এরপর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ওইদিনই তাকে যশোর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে নানি তাসলিমার কোলে বাচ্চাটি দিয়ে তিনি বাথরুমে যান। এসে শোনেন বাচ্চা চুরি হয়ে গেছে।

শিশুর নানি তাসলিমা বলেন, এক নারী তাদের রুমে এসে ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করেন। পরে গল্প জমিয়ে বাচ্চাটি কোলে নেন। এক পর্যায়ে তিনি হাসপাতালের বিছানা গোছাচ্ছিলেন। এ সুযোগে বাচ্চাটি নিয়ে চলে যান ওই নারী। পরে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিশু হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাক্তার সৈয়দ নুর-ই হামিম জাগো নিউজকে বলেন, তৃতীয় তলার ৩০৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক্সটা-১ নম্বর বেডে ছিল ওই নবজাতক। রোববার তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। হঠাৎ জানতে পারি বাচ্চাটি চুরি হয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দেই।

সৈয়দ নুর-ই হামিম আরও বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় বোরকা পরা লাল রঙের ওড়না ও মুখে মাস্ক পরা এক নারী ঠিক দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে হাসপাতালের তৃতীয় তলা থেকে বাচ্চাটি কোলে নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক আটকে প্রত্যেককে তল্লাশি ও সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

এ বিষয়ে উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ এজাজ জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশ এরই মধ্যে
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পর নবজাতকটি উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার তাজুল ইসলাম জানান, বাচ্চা চুরির ঘটনায় মামলা হচ্ছে। পুলিশে এরই মধ্যে বাচ্চাটি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে।

মিলন রহমান/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।