খাসজমি থেকে উচ্ছেদের পর কবরস্থানে বসবাস
জমি কিংবা ভিটেমাটি কিছুই নেই। তাই কবরস্থানে ঘর বানিয়ে থাকেন। আতঙ্ক আর ভয় নিয়েই ভাঙা ঘরে বসবাস করে আসছে তিনটি পরিবার। বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে কবরস্থানে বসবাসরত পরিবারগুলো।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীখোলার ফুলকুচি কবরস্থানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত হাসিনুর দম্পতি, ফরিদুল দম্পতি ও হযরত আলী দম্পতিসহ ওই এলাকায় প্রায় ৩০টি পরিবার সরকারি খাস জায়গায় বসবাস করে আসছিল। খাস জায়গা সরকারের প্রয়োজন হওয়ায় প্রায় দেড় বছর আগে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। অন্যান্য পরিবারগুলোর জায়গা জমি থাকায় সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু এই তিন পরিবারের কোনো জমিজমা কিংবা ভিটেমাটি না থাকায় তারা কবরস্থানের ভেতরে টিনের ঘর তুলে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, ফুলকুচি কবরস্থানে দীর্ঘদিন যাবত কোনো সংস্কার নেই। গাছ আর জঙ্গলে ভরে গেছে। লক্ষ্মীখোলার আশপাশে বেশ কয়েকটি নতুন কবরস্থান হওয়ায় প্রায় এক বছর হলো ফুলকুচি কবরস্থানে কোনো মরদেহ দাফন হচ্ছে না। যার কারণে ওই তিনটি পরিবার কবরস্থানের ভেতর বসবাস করতে পারছে। তবে রাত হলেই শিয়ালের ডাকাডাকি শোনা যায় সেখানে। বিদ্যুৎবিহীন ভাঙা ঘরে ছেলে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ওই তিন পরিবারের মধ্যে হাসিনুর ব্রেন স্ট্রোক করে প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারটির একেবারে অচলাবস্থা।
হাসিনুরের স্ত্রী মিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী। আগে সরকারি খাস জায়গায় থাকতাম। সেখান থেকে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর কবরস্থানেই বসবাস করছি। প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে মানবতার জীবন কাটাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কবরস্থানে বসবাস করতে ভয় পেলেও ভিটেমাটি না থাকায় কষ্টে থাকতে হচ্ছে আমাদের। মরা মানুষের পাশেই থাকি।

কবরস্থানে বসবারত ফরিদুল ও হযরত আলী বলেন, আমাদের কপাল খারাপ। বাপ-দাদার ভিটেমাটি জমিজমা পাইনি। দিনমজুরি করে সংসার চালাই। আগে খাস জায়গায় থাকতাম, ভালোই ছিলাম। ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর কবরের পাশে ঘুমাতে হচ্ছে। রাত হলেই আতঙ্কে থাকি। ছেলে-মেয়েরা কবরস্থানে থাকতে ভয় পায়। সরকারি অনেক খাস জমি থাকলেও আমাদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যেন আমাদের একটু মাথা গোজার ঠাঁই করে দেয়।
রায়গঞ্জ পৌর মেয়র আব্দল্লাহ আল পাঠান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি এখনই শুনলাম। এটা দুঃখজনক। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্তি কণা মন্ডল বলেন, বিষয়টি আমি অবগত না। ঘটনাটি সত্য হলে অবশ্যই উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএ/এমএস