২ কোটি টাকার ভুয়া পে অর্ডারে ৪৭ হাজার বস্তা সিমেন্ট কেনার চেষ্টা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই কোটি টাকার ভুয়া পে অর্ডারে সিমেন্ট কিনতে গিয়ে আটক হয়েছেন দুই প্রতারক। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুর ২টায় ভৈরব বাজার এলাকার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন-কথিত ঢাকার গুলশানের বার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ম্যানিজিং ডিরেক্টর আবু মাসুম মোহাম্মদ মুতাসিন বিল্লাহ (৫৫) ও ভৈরব পৌরশহরের চন্ডিবের কামাল সরকারের বাড়ির আমিনুল হকের ছেলে মো. শামীম আহমেদ (৫৫)।
ব্যাংক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনা এক সপ্তাহে আগের। ভৈরব বাজারে অবস্থিত জেআই ইমপেক্স লিমিটেড কোম্পানির মালিক দুলাল সাহার কাছ থেকে ৪৭ হাজার বস্তা সিমেন্ট কিনতে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ঢাকার দিলকুশা শাখার ইস্যু করা দুই কোটি টাকার একটি ভুয়া পে অর্ডার জমা দেন আটক দুই প্রতারক। পরে জেআই ইমপেক্স ডিরেক্টর কৃষ্ণ চন্দ্র সাহা ও কোম্পানি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বিএম রেজা পে অর্ডারটি নগদায়ন করতে ভৈরব বাজার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শাখায় যান।
ব্যাংক কর্মকর্তা পে অর্ডারটি নগদায়ন করতে গেলে এটি ভুয়া প্রমাণিত হয়। শাখা ব্যবস্থাপক আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ঘটনাটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। পরে দুই প্রতারককে আটক করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়।

জেআই ইমপেক্স কোম্পানির সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ বিএম রেজা বলেন, যেহেতু আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নামে পে অর্ডারটি ইস্যু করে প্রতারণা করা হয়েছে তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা করবে।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ভৈরব বাজার শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা আল মনসুর জানান, ইস্যু করা পে অর্ডারে যে নামে ব্যাংক কর্মকর্তার সই রয়েছে সে নামে গুলশান শাখায় কোনো কর্মকর্তা নেই। এছাড়া পে অর্ডারে যে অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া আছে সে নামেও কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।
এ বিষয়ে ভৈরব বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শ্যামল মিয়া বলেন, ‘ভৈরব বাজার শাখার ব্যবস্থাপক ঘটনাটি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে ঘটনাটির সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ায় এ ঘটনায় ভৈরব বাজার শাখা ব্যবস্থাপক মো. আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বাদী হয়ে প্রতারণার মামলা করবেন।
এসআর/এমএস