যশোরে দুষ্প্রাপ্য সামগ্রীর দুদিনব্যাপী প্রদর্শনী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ২৬ মার্চ ২০২২

দুষ্প্রাপ্য নানা সামগ্রী নিয়ে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে যশোরে। প্রাচীন আমলের মুদ্রা, নোট, ডাক টিকিট, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত রেডিও, ক্যাসেট, বিভিন্ন অস্ত্র এবং স্বাধীন বাংলাদেশের খোদাই করা মানচিত্রসহ বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য জিনিস স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) যশোর জিলা স্কুলে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। আটজন সংগ্রাহক এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। জেলায় এই ধরনের প্রদর্শনী এবারই প্রথম। যশোরে এই দুষ্প্রাপ্য সামগ্রীর প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে যশোর কালেক্টরস সোসাইটি। এ সোসাইটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন সংগ্রাহকের কাছে দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী থাকলেও সম্মিলিতভাবে একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য এই ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন প্রথম দিনেই সাড়া ফেলেছে। প্রচুর উৎসাহী মানুষ এইসব সামগ্রী দেখতে ভিড় জমান। সংগ্রাহকরা বেশিরভাগই ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফিরে দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী সঞ্চয় করেছেন তাদের প্রত্যেকেই।

jagonews24

প্রদর্শনীতে অ্যান্টিক সংগ্রাহকদের স্টলগুলোর মধ্যে সবথেকে বড় তাৎপর্যপূর্ণ স্টলটি হলো বঙ্গবন্ধু শীর্ষক প্রদর্শনী। এ বঙ্গবন্ধু প্রদর্শনীর সংগ্রাহক লুতফর রহমান লাল্টু। এ প্রদর্শনীতে রয়েছে- বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বঙ্গবন্ধু যে ধরনের মাইকে কথা বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সেই ধরনের মাইক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা, প্রাচীনকালে কৃষকদের ব্যবহৃত হুক্কা পাইপ, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত রেডিও ও ক্যাসেট, বঙ্গবন্ধু ডাকে বাঙালি জাতি যেসব জিনিসপত্র নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই তরবারি, ঢাল, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং পাক হানাদাররা যে বেয়োনেট ব্যাবহার করে বাঙালিদের হত্যা করেছিল সেই বেয়োনেট এবং স্বাধীন বাংলাদেশের খোদাই করা মানচিত্র।

এছাড়া তার প্রদর্শনীতে আরও রয়েছে- বিভিন্ন দেশের বিলুপ্ত হওয়া মুদ্রা, আগের যুগে ব্যবহৃত কয়লার ইস্তিরি, কলের গান, আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত বস্তু, আগের যুগের টেলিফোন, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত নানা মডেলের ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্ত হওয়া লটারি ও ডাক টিকিটসহ আরও অনেক কিছু।

লুতফর রহমান লাল্টু বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ঘুরে আমার নজরে পড়া প্রাচীনকালে ব্যবহৃত দুর্লভ এ সব বস্তু একটি একটি করে সংগ্রহ করেছি। যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের যুদ্ধকালীন সময়ের পরিচিতি ও ইতিহাস তুলে ধরে। এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসব বস্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও গাঢ় করে। খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে আমি মোট ১২টি প্রদর্শনীতে আমার এই সংগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি।

jagonews24

উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হয়। যশোর কালেক্টরস সোসাইটি সংগঠনের সদস্যরা এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এখানে প্রদর্শনী পরিদর্শনে এসে জাতির পিতার অনেক সংগ্রহ দেখলাম, কলের গান শুনেছি ও দেখেছি। কৃষকেরা আগের যুগে যে হুক্কা ব্যবহার করতো সেগুলো দেখলাম। এছাড়া আগের যুগে মানুষ যেসব জিনিসপত্র ব্যবহার করতো কিন্তু এখন কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সেগুলো এখানে প্রদর্শনীতে দেখলাম। এগুলো দেখে আমি অত্যন্ত অভিভূত। অ্যান্টিক সংগ্রাহকদের এসব সংগ্রহ যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোথাও রাখতে হয় সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে পারি যদি সংগঠনের সদস্যরা আগ্রহী হন তাহলে।

যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম আযম বলেন, প্রাচীনকালের ঐতিহ্য সংগ্রহ করে রেখেছে এই সংগঠনের সদস্যরা সেগুলো দেখে আমি অভিভূত। এসব প্রদর্শনী দেখে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রাচীনকাল এবং যুদ্ধকালীন সময়ের অনেক ধারণা পাবে। তারা স্বাধীনতার চেতনায় আরও উদ্বুদ্ধ হবে।

jagonews24

ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রদর্শনী দেখতে আসা শহরের বেজপাড়া এলাকার তপু বিশ্বাস বলেন, আমি এখানে প্রদর্শনী দেখতে এসেছি, সঙ্গে করে ছেলেকেও নিয়ে এসেছি। দেখে খুব ভালো লাগছে। এগুলো যেহেতু এখন আর দেখা যায় না সেহেতু এগুলো এখনকার প্রজন্মের কাছে তৎকালীন সময় সম্পর্কে শিক্ষা নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তপু বিশ্বাসের ছেলে যশোর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র তীর্থ বলে, আমার এ প্রদর্শনী দেখে অনেক আনন্দ লাগছে। এখানে এসে প্রাচীনকালের অনেক জিনিসের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি এবং জানছি।

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।