৪ বেডে চলছে বাগেরহাট হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিন্তু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রয়েছে মাত্র চারটি শয্যা। ফলে শয্যা সংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৮ রোগী ভর্তি হন বলে জানা গেছে।
এর আগে রোববার সকালে বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চার শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭ জন। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় মেঝের পাশাপাশি আইসোলেশন ওয়ার্ডের দুটি কক্ষে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে আসা জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার আছমা বেগম বলেন, গত দুদিন ধরে ছেলেটার পেট ফাফা, বমি ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে। উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও কোনো উপকার হয়নি। তাই সকালে ছেলেকে নিয়ে জেলা হাসপাতালে আসি।
জেলার কচুয়া উপজেলার সরোয়ার মোড়ল (৪৫) বলেন, গত চারদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছি। বমি, পাতলা পায়খানার সঙ্গে পেট ফুলে রয়েছে। শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখন কিছুটা সুস্থ আছি। হাসপাতালে এসে দেখছি বয়স্কদের চেয়ে শিশুরাই বেশি।
বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে প্রায় ২০০ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৭ শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স আসমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, শিফট অনুযায়ী আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। কিন্তু প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে চিকিৎসা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে নির্ধারিত চারটি শয্যা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে মেঝের পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডের জন্য জনবল বাড়ানো হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি আরও বলেন, অস্থায়ীভাবে শয্যা সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। তবে সামনে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেড বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এসজে/জেআইএম