৫ জেলায় যায় নারান্দিয়ার মুড়ি

আরিফ উর রহমান টগর আরিফ উর রহমান টগর টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৭:০১ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২২
মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত নারান্দিয়ার এক নারী

বেশ সুনাম রয়েছে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়ায় উৎপাদিত মুড়ির। হাতে ও মেশিনে উৎপাদিত এ মুড়ি আশপাশের অন্তত পাঁচ জেলায় বিক্রি হয়। সারা বছরই এ মুড়ির কদর থাকলেও রমজানে এর চাহিদা বেড়ে যায়। রমজান মাসে এখানকার মুড়ি ব্যবসায়ী ও কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নারান্দিয়া, মাইস্তা, নগরবাড়ী, দৌলতপুর, লুহুরিয়া ও সিংহটিয়াসহ প্রায় ১৫ গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি করেন। বংশ পরম্পরায় মুড়ি ভাজার কাজ করেন তারা। একজন দিনে এক থেকে দেড় মণ মুড়ি ভাজতে পারেন। প্রতি মণ চালে ২২-২৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি পাইকারি ৭৫-৮০ টাকা এবং খুচরা ৮৫-১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

দৌলতপুর গ্রামের মুড়ি কারিগর কণিকা বর্মণ বলেন, খড়ি ২০০ টাকা মণ, ধান এক হাজার ২০০ টাকা মণ। ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকানোর পর মেশিনে মাড়াই করে মুড়ি ভাজার জন্যে চাল তৈরি করা হয়। সেই চাল দিয়ে লবণ জলের মিশ্রণে আগুনে তাপ সহ্য করে বিশুদ্ধ মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয়। মুড়ি ভেজে এখন লাভ টিকে না।

হাসি বেগম বলেন, মুড়ি ভেজে আমাদের পরিশ্রমের দাম উঠে না। গরিব মানুষ এ কাজ কইরা অনেক দিন ধরে খাই। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।

Tangail-Muri-pic-3.jpg

মিনতি রানী মোদক, সুশীল মোদকসহ অনেকে বলেন, আমরা বংশ পরম্পরায় মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সব কিছুর দাম বেশি। মুড়ির দাম বাড়ে নাই। দিন শেষে লাভ থাকে না বললেই চলে। সরকার থেকে যদি আমাদের সুদমুক্ত ঋণ দিতো তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারতাম।

তারা আরও বলেন, বেশির ভাগই লাভ চলে যায় মধ্যসত্বভোগীদের পকেটে। রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা পিকআপ, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে বস্তা ভর্তি মুড়ি কিনে টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি করেন। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় পাশের সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে নারান্দিয়ার মুড়ি সরবরাহ করা হয়।

অন্যদিকে নারান্দিয়া ইউনিয়নের নগরবাড়ীতে দুটি, দৌলতপুরে দুটি মিলে পাঁচটি মেশিনের সাহায্যে মুড়ি ভাজা হয়।

সততা মুড়ির মিলের স্বত্বাধিকারী শংকর চন্দ্র মোদক বলেন, ৫০ কেজি চালের বস্তায় ৪২-৪৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি আমরা ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি করি। পাইকাররা আবার সে মুড়ি প্রতি কেজি কমপক্ষে ৬৫-৭৫ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন ৫টি মিলে ১৫০ বস্তারও বেশি চালের মুড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। এতে প্রায় প্রতিদিন চার লাখ টাকার মেশিনে ভাজা মুড়ি কেনাবেচা হচ্ছে।

Tangail-Muri-pic-3.jpg

তিনি আরও বলেন, রমজানে প্রায় চার লাখ টাকার মুড়ি প্রতিদিন মেশিনে ও হাতে ভেজে তৈরি হলেও বছরের অন্য সময়ে অর্ধেকে নেমে আসে। শতাধিক শ্রমিক এবং কয়েক’শ পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ও বিপুল সংখ্যক মানুষ পরোক্ষভাবে মুড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা দিনদিন এ কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে কালিহাতীর বাসিন্দা এফবিসিসিআইর পরিচালক আবু নাসের জানান, মুড়ি উৎপাদনের অন্যতম স্থান কালিহাতীর নারান্দিয়া। এখানকার উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার মুড়ি সারাদেশে সরবরাহ হচ্ছে। এটি একপ্রকার কুটিরশিল্প। মানুষের চাহিদা পূরণে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।