ভারতযাত্রায় আগরতলা ইমিগ্রেশনে অসহনীয় দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:৩৬ এএম, ৩০ এপ্রিল ২০২২
আগরতলা ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন

ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। দু’বছর পর ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়ায় স্থলবন্দর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। তবে আখাউড়া ইমিগ্রেশন সহজে পার হলেও সীমান্তের ওপারে আগরতলা ইন্ট্রিগ্রেটেড চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

ওই দেশের ইমিগ্রেশন থেকে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট সার্ভার ডাউন থাকায় দীর্ঘ সময় লাগছে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ের শুধু মেডিকেল, ব্যবসা ও কুটনৈতিক ভিসাধারীরা এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ভ্রমণ ভিসা চালু হয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ চালু হয়েছে ভ্রমণ ভিসাধারীদের জন্য স্থলবন্দর দিয়ে পারাপার। ভারতে যাতায়াত অনেকটা সহজ হওয়ায় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য জনপ্রিয় এই স্থলবন্দর।

Agortola-(2).jpg

পবিত্র ঈদুল ফিতরে টানা ৯ দিনের বন্ধের কবলে বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরগুলো। সেই সুযোগে অনেকেই ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশে যাচ্ছেন অনেকেই। তাই গত কয়েকদিন যাবত আখাউড়া স্থলবন্দরে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

তবে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন সহজে পার হতে পারলেও আগরতলা ইমিগ্রেশনে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) রাতে অনেক যাত্রীকে আগরতলা ইমিগ্রেশন থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিজিবি তাদের গ্রহণ না করায় তারা আবার আগরতলা ইমিগ্রেশনে গিয়ে আটকা পড়েন। পরে বিজিবি-বিএসএফ এবং বাংলাদেশি ইমিগ্রেশনের আলোচনার মাধ্যমে রাত ৯টা থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরুর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

Agortola-(2).jpg

আশরাফুল ইসলাম রানা নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে কিছু ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আখাউড়া ইন্টিগ্রেট চেকপোস্ট পার হয়ে ত্রিপুরা সীমান্তে তীব্র জটে পড়েছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ২৯ এপ্রিল (শুক্রবার) বেলা ১১টা থেকেই ভারতীয় ইমিগ্রেশনে চাপ বাড়তে থাকে বাংলাদেশিদের। মাঝে গতরাত ৮টার পর যাত্রীদের বাংলাদেশ সীমান্তে ফেরত যেতে অনুরোধ করা হয়। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক যাত্রী। বাংলাদেশি যাত্রীদের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (৩০ এপ্রিল ভোর ৪টা) লাইনে দাঁড়িয়ে, শুয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ইমিগ্রেশনের জন্য ত্রিপুরা সীমান্তে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত ১৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫-৬শ’ বাংলাদেশি যাত্রীকে এখনও এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ডাল-ভাত ও শিশুদের জুস সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশিরা। তবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এই তীব্র জটের কারণে অনেকেই পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে পারেন নি। যাত্রীরা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।’

Agortola-(2).jpg

আখাউড় চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে জানান, বিকেল ৪টার পর থেকে আখাউড়ায় ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে যারা আগরতলা চেকপোস্টে গিয়েছেন তাদেরকে ইমিগ্রেশন না করে ফিরিয়ে দেওয়া শুরু করে। কিন্তু বিজিবি তাদের গ্রহণ না করায় তারা আবার আগরতলা ইমিগ্রেশনে গিয়ে আটকা পড়েন। পরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের আলোচনা প্রেক্ষিতে আবার ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরু করে আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৭৭ জন যাত্রী পারাপার হয়েছে। ঈদের পর এই সংখ্যা আরও বাড়বে। আমরা আমাদের সীমিত জনবল নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।