৪ মাস ঘুরেও স্কুলছাত্রের জন্মনিবন্ধনে মেলেনি চেয়ারম্যানের সই
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে এক স্কুলছাত্রের জন্মনিবন্ধন সংশোধনী ফরমে সই না করার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে সাখাওয়াত হোসেন জসিম নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি নিয়ে শুনানি করলেও নিজের খামখেয়ালিতে অটল রয়েছেন তিনি। চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও সই না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই ছাত্রের বাবা।
সোমবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউএনও এস এম শান্তুনু চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত জসিম চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলফিকার আলী চৌধুরী ও সাবিনা ইয়াছমিন দম্পতির ছেলে নুর আলী চৌধুরী ওহি ২০০৭ সালের ৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করে। চরবাদাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরসীতা গ্রামের বড় বাড়ি তার স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করে ২০০৮ সালের ২৬ জুন জন্মনিবন্ধন ইস্যু করা হয়। ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর এর সনদ দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, তার পুরো নামের জায়গায় শুধু ‘অহি’ লিপিবদ্ধ হয়।
এছাড়া জন্মনিবন্ধনটি ইংরেজিতেও লিপিবদ্ধ হয়নি। ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি অনলাইনে জন্মনিবন্ধনটি সংশোধনের পর সইয়ের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে শিক্ষা সনদের কপিও জমা দেওয়া হয়। ওহি চরসীতা তোরাবআলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। কিন্তু চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দেন, সই করবেন না। সই না করায় ২৫ জানুয়ারি জুলফিকার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ইউএনও ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ট্যাগ কর্মকর্তা হরিদাশ সরকারকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মনিবন্ধনটি সংশোধনের সুপারিশ করে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে সংশোধিত জন্মনিবন্ধনটি ইউপি কার্যালয়ের সার্ভেয়ারে যায়। অনলাইন থেকে সংশোধিত কপি সংগ্রহের পর পরিষদ সচিব মো. ফিরোজ আলম সই করেন। কিন্তু এবারো সই করেননি চেয়ারম্যান।
৯ মার্চ এ ঘটনায় ফের ইউএনওর কাছে চেয়ারম্যান সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন জুলফিকার। এতে ৪ এপ্রিল ইউএনও শুনানির জন্য উভয়পক্ষকে চিঠি পাঠান। ১১ এপ্রিল উভয়ের উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
জুলফিকার আলী চৌধুরী দাবি, ‘চেয়ারম্যান জসিম আমার আপন চাচা। তার সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এজন্যই তিনি খামখেয়ালিভাবে আমার ছেলের সংশোধিত জন্মনিবন্ধন ফরমে সই করছেন না। এ নিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ফিরোজ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আইনগতভাবে সংশোধনী ফরমে চেয়ারম্যানের সই যৌক্তিক। কিন্তু তিনি সই দিচ্ছেন না। আমি আমার সই দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন জসিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জুলফিকার পৌরসভার নাগরিক। তার ছেলের জন্মনিবন্ধন সংশোধনী ফরমে আমি কীভাবে সই করবো?’
ইউএনও এস এম শান্তুনু চৌধুরী বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও অভিযোগকারীকে নিয়ে শুনানি হয়। এ সময় চেয়ারম্যান জানান, আবেদনকারীর বাবা রামগতি পৌরসভার বাসিন্দা। এজন্য তিনি সই করবেন না। এ নিয়ে চেয়ারম্যানকে লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেরে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাজল কায়েস/এসজে/এএসএম