তৃণমূলের মত ছাড়াই কেন্দ্রে তালিকা পাঠানোর অভিযোগ আ’লীগ নেতার
টাঙ্গাইলের সখীপুরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্রে নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান বুলবুল।
সোমবার (৯ মে) বিকেলে সখীপুর প্রেস ক্লাবে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বুলবুল জানান, আগামী ১৫ জুন গজারিয়া ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনিও ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।
আতিকুর রহমান বুলবুল বলেন, সোমবার ইউনিয়নের তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আনোয়ার হোসেন নামে এক অনুপ্রবেশকারীর নাম তালিকার এক নম্বরে রেখে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-অর্থসম্পাদক ছিলেন। তার বাবাও বিএনপির পদধারী নেতা এবং তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির বাইরে। ওই ব্যক্তি ব্যতীত দলের জন্য নিবেদিত, একনিষ্ঠ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিককে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছে। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য, ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের নেতাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় প্রথমে থাকা আনোয়ার হোসেন বলেন, মনোনয়ন তালিকায় আমার নাম এক নম্বরে আছে। এ কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে ও আমার মনোনয়ন ঠেকাতে তিনি (আতিকুর রহমান বুলবুল) অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালেও আমি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। সে সময় আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে ওই বছর তার নাম ছিল এক নম্বরে আর আমার নাম ছিল তিন নম্বরে।
ছাত্রদল নেতা ছিলেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০০৩ সালে আমি যখন গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কলেজে লেখাপড়া করি তখন উপজেলা ছাত্রদলের একটি কমিটি হয়। ওই কমিটিতে দুইজন আনোয়ার হোসেন ছিল। নামের মিল থাকায় তিনি সেই কমিটির মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি করেছেন।
গজারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুল আমিন বলেন, সময়ের অভাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভা করা সম্ভব হয়নি। তবে সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কমিটির অনেক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার বলেন, মনোনয়ন তালিকায় প্রথমে নাম আসা আনোয়ার হোসেন আগের ইউনিয়ন কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক। দুই গুরুত্বপূর্ণ পদধারী কর্মী কীভাবে অনুপ্রবেশকারী বিষয়টি তার জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নামের তালিকাটিই জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আরিফুর রহমান টগর/এমআরআর/এমএস