দুই কিডনিই নষ্ট, বাঁচতে চায় রাশি আক্তার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ১০ মে ২০২২
রাশি আক্তার

ভ্যানচালক বাবার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রাশি আক্তার। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে চাকরি করবে। এসএসসি পাস করলেও কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়নি তার। এর আগেই দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বাবার টাকা না থাকায় চিকিৎসার অভাবে দিনের পর দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাশি আক্তার। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বার বার মায়ের কাছে বিষ চাইছে সে।

মঙ্গলবার (১০ মে) সকাল থেকে রাশি আক্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী গ্রামের ভ্যানচালক মোলামিন মিয়ার মেয়ে রাশি আক্তার। ২০২১ সালের বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। কলেজে ভর্তি হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে চিকিৎসকরা জানান তার দুইটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে।

পরিবারের সামান্য ভিটেমাটি ছাড়া যেটুকু জমি ও গবাদিপশু ছিল সব বিক্রি করে এতদিন চিকিৎসার খরচ চালিয়েছে তার পরিবার। বর্তমানে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। একদিকে মেয়ের চিকিৎসা অন্যদিকে সংসার চালাতে দিশেহারা মোলামিন।

সপ্তাহে দুদিন তার শরীরে এ পজিটিভ দিতে রক্ত হয়। এতে প্রতি সপ্তাহে যাতায়াতসহ খরচ হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও একদিন পর পর ডায়ালাইসিস করাতে হয়। সেখানেও সপ্তাহে খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। গত এক বছর ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে এখন পরিবারটি নিঃস্ব।

রাশির মা রিপনা বেগম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আমার মেয়ে আর বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। যন্ত্রণায় চটপট করছে আর আমার কাছে বিষ চাইছে। মেয়ের কষ্ট এখন আমিও সহ্য করতে পারতেছি না।

তার বাবা মোলামিন মিয়া জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য যা সম্বল ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। চিকিৎসার জন্য টাকার যোগাড় করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসার অভাবে মেয়েটি দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তার চিকিৎসার জন্য প্রশাসনসহ বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মেয়েটি শয্যাশায়ী। আমি ইউএনও মহোদয়সহ সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে কথা বলবো। সেই সঙ্গে আমার পক্ষ থেকে তার পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে মদন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ জামাল জাগো নিউজকে, কিডনিজনিত সমস্যার কারণে ভুক্তভোগি পরিবার যদি আবেদন করে তবে এককালীন ৫০ হাজার টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।

এইচ এম কামাল/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]