‘তুই শিবির করিস’ বলে কলেজশিক্ষককে চড়-থাপ্পড় এমপির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ২০ মে ২০২২

অডিও শুনুন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরে কলেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান।

লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকরা হলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন।

লিখিত অভিযোগে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি ২০১৪ সাল থেকে একটি কুচক্রী মহলের চক্রান্তের শিকার। কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা তিনিসহ প্রতিবাদী শিক্ষকরা হামলার শিকার হচ্ছেন। ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাত বস্তার খাতা চুরির চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি এবং একজন ননএমপিওভুক্ত জুনিয়র প্রভাষকের নেতৃত্বে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার কলেজে প্রবেশ করেন। তিনি (কলেজ অধ্যক্ষ) জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসেনের ওপর দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সংসদ সদস্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় ৬১ নম্বর সিরিয়ালধারী ননএমপিওভুক্ত প্রভাষক সুব্রত কুমার নন্দী জোর করে অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করছেন।

ঘটনার সময় সংসদ সদস্য আনার কলেজে প্রবেশ করেই খাতা চুরি মামলার সাক্ষী সহকারী অধ্যপক সাজ্জাদ হোসেনকে ‘তুই শিবির করিস’ বলেই চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এরপর কলেজ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ খাতা চুরি মামলার ২ নম্বর আসামি আব্দুল মজিদ মন্ডল, সুব্রত কুমার নন্দী, খাতা চুরি মামলার ১ নম্বর আসামি রকিবুল ইসলাম মিল্টন, অফিস সহকারী সবুজ ও তাপস সাধুখা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে তার কক্ষে নিয়ে যান।

অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষ আরও উল্লেখ করেন, ‘সেখানে তাকে (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন) জিম্মি করে তার কাছে রক্ষিত দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি ফাইল ছিনতাই করার চেষ্টা করেন। পরে আমি জানতে পেরে খুলনা ডিআইজিকে ফোন দিলে তিনি স্থানীয় থানা পুলিশকে শিক্ষকদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন।’

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোবাইলে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কলেজ থেকে সরকারি খাতা চুরির বিষয় নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে আদালতে একটি চুরির মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমান সিআইডি তদন্ত করছে। এই মামলার সাক্ষী আছেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। এ কারণে তার ওপর ক্ষুদ্ধ আসামিরা।’

লাঞ্ছনার শিকার সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি তার ডিপার্টমেন্টে জরুরি কাজ করছিলেন। এমন সময় তার কক্ষে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম হাজির হন। তার সঙ্গে থাকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানীকে কক্ষের দরজা বন্ধ করতে বলেন। সংসদ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ‘তুই কলেজে গ্রুপিং করিস, তুই শিবির করিস’ বলেই মুখে চড় মারতে থাকেন। একে একে পাঁচ থেকে ছয়টি চড় দিয়ে তাকে শিক্ষক কমন রুমে যেতে বলা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘কথামতো আমি শিক্ষক কমন রুমে গিয়ে বসি। এরপর বাথরুমে যেতে চাই। বাথরুমের দরজা পর্যন্ত চলে যাওয়ার পর ডেকে মোবাইল রেখে যেতে বলা হয়। তারপর মোবাইল রেখে বাথরুমে যাই। বাথরুম থেকে ফিরে এসে আবারও কমন রুমে বসি।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুদকের একটি ফাইল হাতিয়ে নিতে সুব্রত ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডল আমাকে অপমান-অপদস্ত করেন। কিন্তু এ ধরনের একটি সরকারি ডকুমেন্ট নিতে হলে কালীগঞ্জ ইউএনওর সম্মতি ছাড়া আমি দিতে পারবো না বলে তাদের সাফ জানিয়ে দিই। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সুবিধা করতে না পেরে তারা আমাকে ছেড়ে দেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কলেজ গ্রুপিংসহ নানা সমস্যার কথা জানতে পেরে আমি ওই কলেজে গিয়েছিলাম। সমস্যাগুলো মিটমাট করার জন্য একটু কড়া ভাষায় কথা বলেছি। তবে কাউকে অপমান-অপদস্থ করা হয়নি। তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।’

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]