খরচ কমাতে ‘পলিথিনের নৌকায়’ ধান নিচ্ছেন কৃষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ২২ মে ২০২২
পলিথিনের ভেতর বায়ু প্রবেশ করিয়ে ধান নিচ্ছেন কৃষক

ভারি বৃষ্টিতে বেড়েছে পাবনার চলনবিলের পানি। এতে দেখা দিয়েছে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়া শঙ্কা। তাই জমির পাকা ধান কাটছেন কৃষকরা। তবে নৌকা ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে। তাই কাটা ধান বাড়ি নিতে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি পলিথিনের নৌকা ব্যবহার করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারদিন ধরে চলনবিলের পানি বেড়েছে। শ্রমিক সংকট, প্রতিকূল পরিবেশ, কৃষক-সেচযন্ত্র মালিকের মধ্যে উৎপাদিত ধানের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ ও আগাম বন্যার আশঙ্কার মধ্য দিয়ে বোরো ধান কাটছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার কৃষকরা।

খরচ কমাতে অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি নৌকায় ধান পরিবহন করছেন। পলিথিনের একপাশ বেঁধে অন্য পাশ দিয়ে বায়ু প্রবেশ করিয়ে এ নৌকা তৈরি করেছেন তারা। এসব নৌকা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৭০০-১০০০ টাকা।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে চলতি বোরো চাষ মৌসুমে চাটমোহরের ১১ ইউনিয়নে ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে। এবার ব্রি-২৮, ২৯, ৫০. ৫৮, ৬৪, ৮১, ৮৪, ৮৯, ৯২, ৯৬ জাতের ধান চাষ হয়েছে। এছাড়া হাইব্রিড এসএল ৮ এইচ, তেজ গোল্ড, দোয়েল, টিয়া ও ব্রাক জাতের ধানও চাষ করা হয়েছে।

পলিথিনে তৈরি নৌকায় ধান নিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার বোয়াইলমারী গ্রামের বোরো চাষি সুমন প্রধান। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এখনো প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চলনবিলের পানিও বেড়েছে। ফলে জমি থেকে ধান কেটে মাথায় বা গাড়িতে করে বাড়ি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নৌকার খরচ বেশি ও শ্রমিকেরও বেশ সংকট। তাই পলিথিন দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে নৌকা তৈরি করে ধান সড়কে নিয়ে যাচ্ছি। সেখান থেকে গাড়িতে করে ধান বাড়ি নিয়ে যেতে হচ্ছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে চলনবিলে অনেক জমির ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

poli1

চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের চাষি আ. লতিফ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বোরো ধানের চাষ করে আসছি। চারা উৎপাদন, জমি প্রস্তুত, মই দিয়ে জমি সমান করা, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার এবং কাটা বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়। ধান ভালো হলে ২০ থেকে ২৫ মণ হারে ফলন পাওয়া যায়। তবে যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষ করেন তাদের প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত আরও ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। সেচযন্ত্র মালিককে উৎপাদিত ধানের চার ভাগের এক ভাগ দিতে হয়। সব মিলিয়ে খুব একটা লাভ থাকে না।’

নটাবাড়িয়া গ্রামের বোরো ধান চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধানের ভালো দাম থাকা সত্ত্বেও আবাদে খরচ বেশি হওয়ায় লাভ থাকছে না। বিলে পানি প্রবেশ করায় ধান পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। নৌকার খরচ বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে পলিথিন দিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে তৈরি নৌকায় ধান বহন করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকি থাকলেও খরচ কম। পলিথিন দিয়ে একটি নৌকা তৈরি করতে ৭০০-১০০০ টাকা খরচ হয়।’

উপজেলা হাসুপুর গ্রামের বোরো চাষি ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘একজন শ্রমিককে প্রতিদিন ৭-৮০০ টাকা দিতে হয়। এরপরও ঠিক মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না।’

এদিকে উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অধিকাংশ এলাকায় সেচ যন্ত্রের মালিকরা চার ভাগের এক ভাগ ধান নিচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান নিচ্ছেন তারা। এ নিয়ে চাষি ও সেচযন্ত্র মালিকের মধ্যে বিরোধ চলছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, এরইমধ্যে চলতি মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪১০ হেক্টর জমিতে বেশি বোরো ধান চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৬.৫ থেকে ৭.৪ টন। শতকরা ৮০ ভাগ জমির ধান পেকে গেছে। তাই কৃষকদের ধান কেটে ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]