আদম ব্যাপারির খপ্পরে নিঃস্ব খোয়াজ ফকির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ২২ মে ২০২২

অডিও শুনুন

অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্থানীয় আদম ব্যাপারির মাধ্যমে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় আতাইকুলা থানার চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোয়াজ ফকির (৭২)। সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। আদম ব্যাপারির খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন কিডনি রোগে আক্রান্ত এ বৃদ্ধ।

কয়েক লাখ টাকা দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ছেলে বাড়িতে টাকা পাঠানো দূরের কথা, সৌদি আরবে জেল খেটে বাড়ি এসে সংসারের বোঝা হয়েছেন। বাধ্য হয়ে এ বয়সেও ভ্যান চলাতে হচ্ছে কিডনি রোগে আক্রান্ত খোয়াজ ফকিরকে।

jagonews24

অভিযুক্ত আদম ব্যাপারির নাম মোহাম্মদ সোলায়মান। তিনি আতাইকুলা থানার কাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ওয়াজ ফকিরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ছেলে রাসেলকে (২৪) সৌদি আরব পাঠানোর জন্য ধারদেনা করে আদম ব্যাপারি সোলায়মানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন খোয়াজ ফকির। কিন্তু সোলায়মান প্রতারণা করে তার ছেলেকে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠান। এতে তার ছেলে কোনো কাজ (আকামা বা কাজ করার অনুমতি) পাননি। বরং জাল কাগজপত্রে অবৈধভাবে থাকার অপরাধে তার ছেলে রাসেলকে কয়েক মাস জেল খাটতে হয়। সম্প্রতি তিনি জেল খেটে দেশে ফিরে এসেছেন। কোনো কাজ না থাকায় তিনি নিজেই এখন সংসারে বোঝা হয়ে রয়েছেন।

jagonews24

খোয়াজ ফকির জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছেলেকে জেল খাটার জন্য তো সৌদি আরব পাঠাইনি। সংসারে সচ্ছলতা আনার জন্য একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আমি খুবই গরিব, অসহায়। আমার কিছুই নেই। বর্তমানে কিডনি রোগী আমি। ওষুধ না খেলে দিন যায় না। আমি এখন দেনার ভারে জর্জরিত। দেনা শোধ করবো কীভাবে? আর বিচার কোথায় পাবো?’

স্থানীয় ইমরান হোসেন বলেন, ‘আদম ব্যাপারি সোলায়মান বিদেশ পাঠাবে বলে রাসেলের বাবার কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে রাসেল জেল খেটে দেশে ফেরত এসেছে। পরিবারটি খুবই গরিব। সোলায়মানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।’

jagonews24

প্রতিবেশী সাদেক আলীর হাত দিয়ে সোলায়মানকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দেন খোয়াজ ফকির। সাদেক আলী বলেন, পরে আদম ব্যাপারি আরও তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। তিনি জানান, বৃদ্ধ খোয়াজ ফকির অসুস্থ ও দরিদ্র।

খোয়াজ ফকির জানান, প্রথমে বলা হয়েছিল সৌদি আরব গিয়ে তার ছেলে মাসে ১২০০ রিয়াল বেতন পাবেন। কিন্তু তিনি কোনো কাজ পাননি। উল্টো তাকে জেল খেটে বাড়ি আসতে হয়েছে। বিদেশ পাঠানোর পর থেকেই ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি আদম ব্যাপারি সোলায়মানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তাকে বিভিন্নভাবে সান্ত্বনা ও আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে প্রবাসী কিছু পরিচিত মানুষের মাধ্যমে তিনি জেনেছিলেন তার ছেলে জেলে আছে।

jagonews24

খোয়াজ ফকির জাগো নিউজকে বলেন, ‘আদম ব্যাপারি সোলায়মানের সঙ্গে নানা দেন-দরবার করতে করতে আমি হয়রান। তিনি টালবাহানা ও মিথ্যাচার শুরু করেছেন। বাড়িতে গেলেও দেখা করেন না। বাড়ির অন্য লোকজন দিয়ে বলে দেন যে, তিনি বাইরে আছেন।’

স্থানীয়রা জানান, সোলায়মানের কাছে আরও অনেকেই টাকা পাবেন। এমনকী কিছু সমিতি থেকেও টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কিস্তি দেননি। এরই মধ্যে তার কিছু জায়গা বিক্রি করেছেন। তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

jagonews24

আদম ব্যাপারি সোলায়মানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে ফোন করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়ি গিয়ে তার স্ত্রী সেলিনা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তার স্বামী বেশ কিছু লোককে বিদেশ পাঠিয়েছেন। এখন লোক নেওয়া বন্ধ আছে। এজন্য তিনি তাদের নিতে পারছেন না।

তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তার স্বামী ঢাকায় অবস্থান করছেন। এখন বাড়িতে কম আসেন। প্রয়োজন হলে তার স্বামীই তার সঙ্গে কথা বলেন।

এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]