বাঘের আক্রমণে কাওছারের বাবাও প্রাণ হারান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১০:১৩ এএম, ২৩ মে ২০২২
কাওছার গাইন ও তার স্ত্রী-সন্তান

সুন্দরবনে মধু আহরণে গিয়ে বাঘের থাবায় পড়েছেন কাওছার গাইন (২৮) নামের এক মৌয়াল। বাঘে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পার হলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দফা চেষ্টার পর ব্যর্থ হন উদ্ধার কর্মীরা। এমন খবরে কাওছারের বাড়িতে চলছে আহাজারি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাওছার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের খলিশাবুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। দুই সন্তানের জনক কাওছারে এক ছেলে কিছুদিন আগে পানিতে ডুবে মারা যায়। এখন তার মা, স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাইকে নিয়ে ছিল তার জীবন সংগ্রাম। কিন্তু বাঘের থাবায় পড়া একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন অসহায়।

স্থানীয়রা জানান, ১৪ বছর আগে সুন্দরবনে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যান কাওছারের বাবা আব্দুর রাজ্জাকও। তবে সেই মরদেহটিও ফিরিয়ে আনা যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমাম হাসান জাগো নিউজকে বলেন, বাঘের আক্রমণ মৃত্যুর খবরে কাওছারের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। ১৪ বছর আগে একইভাবে সুন্দরবনে মধু আহরণে গিয়ে কাওছারের বাবা আব্দুর রাজ্জাকও বাঘের কবলে পড়ে মারা যায়। কাওছার এলাকার অত্যন্ত বিনয়ী এবং ভালো মানুষ ছিলেন।

শনিবার (২১ মে) বিকেলে সুন্দরবনের খেজুরদানা (নোটাবেকী) এলাকায় মধু সংগ্রহের সময় বাঘের আক্রমণের শিকার হন কাওছার গাইন। বাঘ তাকে টেনে-হেঁচড়ে বনের ভেতর নিয়ে যায় । এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কাওছারের আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘গত ২২ মার্চ সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন থেকে বৈধ পাশ নিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনে যান তারা। এর আগে কয়েকদফা মধু নিয়ে এলাকায় ফিরেছেন। শেষ চালানের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার থেকে তারা নোটাবেকী খেজুরদানা অংশে মধু আহরণের কাজ শুরু করেন। শনিবার সকালে অন্য ছয় সহযোগীর সঙ্গে মৌচাক খোঁজার সময় পাশের ঝোপ থেকে একটি বাঘ লাফিয়ে কাওছারের ওপর পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বাঘটি কাওছারকে নিয়ে বনের আরও গভীরে চলে যায়।’

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম এ হাসান জাগো নিউজকে বলেন, কাওছার নামের এক মৌয়াল সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছে । রোববার সকালে সহযোগী মৌয়ালদের নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বনবিভাগের একটি টিম। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন অসহায়। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা, মা বৃদ্ধ এ অবস্থায় পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে। পরিবারটিকে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।

আহসানুর রহমান রাজীব/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]