হাওরে পানি ঢুকে ভিজলো তিন ইউনিয়নের শুকনো ধান-খড়

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ২৭ মে ২০২২
হাওরে পানি ঢুকে ভিজে যায় শুকনো ধান-খড়

জোয়ান শাহী হাওরে পানি ঢুকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার তিন ইউনিয়নের মাঠ-ঘাট প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ভিজে গেছে খোলা মাঠে শুকাতে দেওয়া ধান ও খড়। এতে বিপাকে পড়েন কয়েকশ কৃষক।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন বিস্তৃত অন্যতম হাওর জোয়ান শাহী হাওর। এ হাওরে সাধারণত আষাঢ় মাসে বর্ষার পানি আসে। কিন্তু মেঘনা নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে গেছে। ফলে বৃহস্পতিবার ভোরে জোয়ান শাহী হাওরের বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়ে। এতে তলিয়ে যায় জমিতে থাকা ধান। একই সঙ্গে কয়েকশ কৃষকের শুকাতে দেওয়া ধান ও খড় ভিজে যায়। অনেকে দৌড়াদৌড়ি করে ভিজে যাওয়া ফসল ঘরে তুলেন।

jagonews24

সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল মিয়া বলেন, বুঝ হওয়ার পর থেকে এ গ্রামে এত তাড়াতাড়ি পানি আসতে কখনো দেখিনি। এখন কীভাবে কৃষকরা তাদের ধান ও খড় শুকাবে সেই চিন্তায় সময় পার করছেন।

আরেক কৃষক মিরান মিয়া বলেন, মৌটুপী গ্রামটি একটি হাওর বেষ্টিত এলাকা। এখানে বছরে ছয় মাস শুকনো আর ছয় মাস পানি থাকে। সাধারণ আষাঢ় মাসে এ হাওরে পানি আসে। কিন্তু এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসেই হাওরে পানি ঢুকেছে। অসময়ে পানি চলে আসায় শতাধিক কৃষকের মাঠে থাকা শুকনো ধান ও খড় ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক বাছির মিয়া বলেন, এ বছর সেচের পানিতে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ঈদের পরদিন থেকে এসব জমির ধান কাটতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় জমির ধান শুকাতে পারিনি। এজন্যই ভিজা ধান ও খড় বাড়ির সামনের মাঠে জমা করে রেখেছিলাম। কে জানতো বর্ষার আগেই হঠাৎ পানি চলে আসবে। তাহলে তো আর মাঠে ধান রাখতাম না। অসময়ের পানিতে মাঠে থাকা ৫০ মণ ধান ও খড় ভিজে গেছে।

jagonews24

এ বিষয়ে শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি জোয়ার শাহী হাওরে পানি চলে ঢুকে পড়ে। অসময়ে এ পানি হাওরে চলে আসায় কয়েক শতাধিক কৃষকের ধান ও খড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকাল থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত কৃষকদের মাঠে থাকা ভিজা ধান ও খড় তাদের বাড়ি তুলছেন। আমার বয়সে কখনো এ সময় পানি ঢুকতে দেখিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, সিলেট অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় সেই পানি মেঘনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে উপজেলার জোয়ান শাহী হাওর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি চলে আসায় মাঠে কৃষকদের রাখা ধান ও খড় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।