ঘুসের টাকা-ইলিশ ফেরত চেয়ে ভূমিহীনের আবেদন
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুজিবুল হককে দেওয়া ঘুসের টাকা, ইলিশ ও চিংড়ি মাছ এবং মধু ফেরত চেয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করেছেন মো. হাসান (৬০) নামের স্থানীয় এক ভূমিহীন।
হাসানের ভাষ্যমতে, নদীভাঙনের পর গত ২০ বছর ধরে তিনি বুড়িরচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামের বাজারের দক্ষিণে স্লুইসের পাশে সরকারি জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করে আসছেন। পরে ওই জমির বন্দোবস্ত পেতে স্থানীয় দিদারের মাধ্যমে ভূমি কার্যালয়ে আবেদন করেন। সম্প্রতি হাসান জানতে পারেন তার বসতবাড়ির ওই জমি দিদার নিজের নামে বন্দোবস্ত করে নিয়েছেন।

হাসান এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। পরে স্থানীয় বুড়িরচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মুজিবুল হককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
হতদরিদ্র মো. হাসানের অভিযোগ, সেই তদন্তে সঠিক প্রতিবেদন দিতে তহশিলদার মুজিবুল হক তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। পরে মুজিবুল হককে নগদ ৩০ হাজার টাকা, পাঁচটি ইলিশ মাছ, তিন কেজি চিংড়ি ও দুই কেজি মধু ঘুস হিসেবে দেওয়া হয়। তিনি নিজে মাছ-মধু মুজিবুল হকের সেনবাগের বাসায় পৌঁছে দেন।

হাসান পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। তার দাবি, মুজিবুল হক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আরও মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছেন। যেহেতু তিনি তার (হাসানের) কথা মতো প্রতিবেদন দেননি তাই তিনি ঘুসের টাকা, মাছ ও মধু ফেরত চান। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভূমি অফিসে গিয়ে টাকা-মাছ-মধু ফেরত চেয়েও পাননি তিনি।
ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে হাসানের টাকা দাবি করার একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী হাসান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজিদ বিন আখন্দের কাছে আবেদন করেন।

এর আগে তহশিলদার মুজিবুল হক নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা থাকার সময়ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে গণশুনানিতে সেই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে শোকজ করে হাতিয়ায় শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। সেই শোকজের জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চান জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর) অংগ্যজাই মারমা।
জানতে চাইলে ঘুসের টাকা ও পণ্য নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তহশিলদার মুজিবুল হক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গেছে ভেবে হাসান স্থানীয়দের ইন্ধনে এমন অভিযোগ করছেন। অভিযোগের তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।

তবে তার কার্যালয়ে ভূমিহীন কিসের টাকা দাবি করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের টাকা চাওয়ার দাবি সত্য নয়।’ চিঠির বিষয়টি অফিসিয়াল কার্যক্রম বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ঘুসের টাকা ও পণ্য ফেরত চেয়ে ভূমিহীনের করা আবেদনপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ।
তিনি রোববার (২৯ মে) জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে গণশুনানি করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/জিকেএস