পোকখালীতে রাত হলেই শোনা যায় গুলির শব্দ, আতঙ্কে গ্রামবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ এএম, ০৯ জুন ২০২২

কক্সবাজারের ঈদগাঁও পোকখালীতে রাত হলেই শোনা যায় গুলির শব্দ। আর এই গুলির শব্দে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে আবারও সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ভূমি দস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ প্রায় চারশ একরের একটি চিংড়ি ঘের ও লবণ চাষাবাদের জমি দখলে নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসী জড়ো করেছে। তাদের কাছে রয়েছে বিশাল অস্ত্রের ভাণ্ডারও। তারা যে কোনো সময় পুরো এলাকায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, অস্ত্রবাজী বন্ধ ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগে বুধবার (৮ জুন) বিকেলে পোকখালীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোমতলীর একটি খোলা মাঠে সংবাদ সম্মেলন করে ওই জামির মালিক দাবি করা ওবায়দুল হক চৌধুরী দল। এসময় শরীরে গুলির স্প্লিন্টারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল চৌধুরীর ও মো. শরিফ উদ্দিন শাহ নেওয়াজ বলেন, সাবেক সাংসদ ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজলের ভাই মশিউর রহমান রাজনের নেতৃত্বে আমাদের চারশ একর জমি দখলের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে এলাকায় জড়ো করছেন।

এসময় শাহ নেওয়াজ বলেন, চক্রটি জমি দখলের পাশাপাশি মালিক পক্ষের যে কোনো দুজন বা কয়েকজন চাষিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। রাজন ছাড়াও এ চক্রের স্থানীয় মোজাহের, মো. ছৈয়দ, নূরুচ্ছফা, আমানু, নজরুল ইসলাম নকুসহ আরও কয়েকজন ভূমি দস্যু ও সন্ত্রাসী জড়িত।

তিনি আরও বলেন, এখন এই মুহূর্তেই আমাদের আশেপাশে অনেক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী উপস্থিত হয়েছেন। আমরা এই এলাকায় আর রক্তের হোলি খেলা চাই না। আমরা শান্তি চাই।

তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি ১৯৩০ সালের ২১ জুন পাঁচ বছরের জন্য ইলিয়াছ মিয়ার দলের (হাফেজ মিয়ার বাবা) কাছে বন্ধক রাখেন। পরবর্তীসময়ে হাফেজ মিয়া মিথ্যা, জাল, নিলাম সৃজন করে ওই জমি নামে বেনামে ক্রয় করেন। পরে ওবাইদুল হক চৌধুরী ও তার বোনেরা ১৯৬৬ সালে জমি পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করে।

নেওয়াজ বলেন, পরে নিম্ন আদালত ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই ওবাইদুল হক চৌধুরী ও তার দুই বোন হুমুরা খাতুন ও হুমবুলারা খাতুনের পক্ষে রায় দেন। পরে ইলিয়াছ মিয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরে ২০০২ সালের আগস্টের ৫ তারিখে নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রেখে যুগ্ম জজ আদালত ওবাইদুল হক চৌধুরী পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন। পরে ২০০৩ সালে হাফেজ মিয়া আবার নিম্ন আদালত ও যুগ্ম জেলা জজ আদালত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। উচ্চ আদালত দীর্ঘ পর্যালোচনার পরে ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল আগের রায় বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেন।

‘কিন্তু দীর্ঘ বিরোধের সুযোগ নিয়ে সাবেক এমপি কাজলদের পরিবার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও গায়ের জোরে এসব জমি জোরজবর দখলে রাখেন। ২০১৯ সালে আদালতের রায়ের পর তারা আমাদের দখলে থাকা চারশ একর জবি আবারও দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য আমারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার পুলিশ সুপার, র‍্যাব-১৫ সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু টাকা ও পেশিশক্তির জোরে ভূমি দস্যুরা হামলা ও মামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে।’

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ওবায়দুল হক চৌধুরী দলের ওয়ারিশ মোজ্জামেল হক চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ তালুকদার, জোয়ারিয়া নালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহান, মো. শাহীন জাহান, মো. শরিফ নেওয়াজ প্রমুখ।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মশিউর রহমান রাজন বলেন, ওবায়দুল হক চৌধুরীর ১৯০ একর জমি ছিল। কিন্তু তারা ২১০ একর জমি আমিসহ গ্রামের অন্যান্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এর ফলে তাদের আর জমি থাকার কথা নয়। আমার কাছে জমি ক্রয়ের সব কাগজপত্র রয়েছে।

সন্ত্রাসী ভাড়া করা বা হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক অনুকম্পা পেতে এসব মিথ্যাচার করছেন তারা।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, এমন কোনো তথ্য বা অভিযোগ পুলিশের কাছে ছিল না। আজ যেহেতু মাইকেই এ তথ্য প্রচার করা হয়েছে। রাতেও টহল জোরদার করা হবে। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।