সিদ্দিকের কান্নায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ২৫ জুন ২০২২

সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক ক্ষুদ্র লেপ-তোষকের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। ঈশ্বরদী-পাবনা সড়কের পাশে আলহাজ্ব মোড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পরিত্যক্ত জায়গায় তার একটি লেপ-তোষক তৈরির ছোট্ট কারখানা ছিল। রাতে কারখানায় লেপ-তোষক তৈরি করে দিনে ভ্যানে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করতেন। স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় পরিবারের একমাত্র সদস্য শিশু কন্যাকে নিয়ে মাঝে মধ্যে কারখানাতেই রাত্রীযাপন করতেন।

২২ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় সওজ ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়ক বর্ধিতকরণের জন্য শহরের আলহাজ্ব মোড় থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। দুপুর ১২টায় আলহাজ্ব মোড়ের পশ্চিম প্রান্তে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হঠাৎ এস্কেভেটরের সামনে এক শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে শুয়ে পড়েন সিদ্দিক।

তিনি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন ‘এই জায়গাটি আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এ জায়গায় লেপ-তোষক তৈরি করে বিক্রি করি। এখানেই খাওয়া-ধাওয়া করি, ঘুমাই। এখন আমি কী করবো, কোথায় যাবো। আমারতো কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমার কারখানা উচ্ছেদের আগে মেয়ে ও আমাকে এস্কেভেটর দিয়ে পিষে মেরে ফেলুন। এ জায়গাটি ছাড়া আমাদের আর বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন থাকলো না।’

সিদ্দিকের সেই আর্তনাদ সওজ কর্মকর্তাদের মন গলাতে পারেনি। গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সিদ্দিকের একমাত্র সম্বল কারখানাটি।

jagonews24

তবে সেদিনের সেই ঘটনা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছিল। ফেসবুকের কল্যাণে এ খবর পৌঁছে যায় ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েসের কাছে। তিনি সিদ্দিকের খোঁজখবর নিয়ে তাকে উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। শুক্রবার (২৪ জুন) তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ দেন। এ সময় সিদ্দিকের শিশু কন্যাকে পোশাক ও খাওয়া বাবদ আর্থিক সহযোগিতাও করেন ইউএনও।

আলহাজ্ব মোড়ের ব্যবসায়ী ইমন হোসেন ইমান জানান, সিদ্দিক খুবই গরিব। ভাঙাচোরা টিনসেডের একটি ছোট্ট কারখানায় রাতে লেপ-তোষক তৈরি করতো। এগুলো দিনে ভ্যান করে বিক্রি করত। পারিবারিক কলহের কারণে সিদ্দিকের স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার তিন মেয়ের মধ্যে দু’জনের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছোট মেয়েকে নিয়ে আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিল মালিকের পরিত্যক্ত জায়গায় একটি ঘর নির্মাণ করে অস্থায়ীভাবে থাকত। ছোট মেয়ে ছাড়া কেউ তার সঙ্গে না থাকায় রাতে লেপ তৈরির সময় সে বাধ্য হয়েই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কারখানায় থাকত। দোকানপাট উচ্ছেদের দিন তার আকুতি মিনতি ও আর্তনাদ সবাইকে ব্যথিত করে।

সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, লেপ-তোষকের ছোট কারখানাটি হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। মেয়েটিকে নিয়ে কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো এ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এ বিপদের সময়ে ইউএনও স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ।

ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস জানান, সিদ্দিকুর রহমানের নিজস্ব বসতভিটা নেই। লেপ-চোষকের কারখানাটিতে শিশু কন্যাকে নিয়ে তিনি রাত্রীযাপনও করতেন। সেটি উচ্ছেদের পর তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। তাই তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করছি।

এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]