বাগেরহাটের ‘সাদা সোনা’ সহজেই পৌঁছাবে ঢাকায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ২৫ জুন ২০২২

সাদা সোনা খ্যাত চিংড়িসহ মাছ উৎপাদনে একটি সম্ভাবনাময় জেলা বাগেরহাট। এ জেলায় উৎপাদিত মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। কিন্তু মাছচাষে সম্ভাবনার প্রধান অন্তরায় ছিল পদ্মা নদী। পদ্মাপাড়ে ফেরির জন্য পোনা ও মাছ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। পদ্মা সেতু চালুর ফলে এই দুর্দশা আর থাকছে না। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর মধ্যদিয়ে দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটে মাছচাষে আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটে গলদা ও বাগদা চিংড়ি থেকে শুরু করে ইলিশ, ভেটকি, পারশে, টেংরা, রুই ও কার্পজাতীয়সহ এমন কোনো মাছ নেই যা পাওয়া যায় না। খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড় এমনকী প্লাবনভূমিতেও মাছচাষ হয়। বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ শিকার করেন জেলেরা।

জেলার চাহিদা মিটিয়েও প্রতিবছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট। এ জেলার বিখ্যাত অনেক কিছুর মধ্যে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি অন্যতম। তবে, শুধু চিংড়ি নয়, প্রতিনিয়ত বিদেশে রপ্তানিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে ইলিশ, ভেটকি, পারশে, টেংরা, রুই ও কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার মাছের বার্ষিক চাহিদা ৭০ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে জেলায় বছরে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। বাগেরহাট থেকে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলায় ও বিভিন্ন দেশে ২৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ পাঠানো হয়। যা থেকে আয় হয় কয়েক কোটি টাকা। মৎস্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন লক্ষাধিক মানুষ।

Fish-(2).jpg

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সড়কপথ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাগেরহাট থেকে মাছ নিয়ে ঢাকায় যেতে মাওয়া-ঘাটে যানজট, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকাসহ নানা কারণে হয়রানি হতে হয়। ফলে মাছ পচে যায় বা গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া ময়মনসিংহ ও কক্সবাজার থেকে মাছ ও চিংড়ির পোনা আনা হয়। পদ্মা পারাপারে দেরি হওয়ায় মাছের পোনা মরে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধন হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর। তাই এখন আর মাছচাষি ও ব্যবসায়ীদের এই দুর্দশা থাকছে না। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর মধ্যদিয়ে দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটে মাছচাষে ব্যপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার কররী গ্রামের চিংড়ি চাষি দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। মাছচাষ ও বিক্রিতে নানারকম প্রতিবন্ধকতা ছিল। এখন আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।’

বারাকপুর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী পুতুল খান বলেন, ‘আড়ত থেকে মাছ কিনে আমরা ঢাকায় পাঠাই। কিন্তু পদ্মা নদীর ঘাটে গিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কখনো দেরিতে ফেরি পাওয়া যায় আবার কখনো আবহাওয়া খারাপের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে মাছ ঢাকায় পৌঁছায় না। তাই ভালো দাম তো দূরে থাক কখনো মাছ নষ্ট হয়ে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়।’

Fish-(2).jpg

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মোহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের পোনা পদ্মা পার হয়েই আসে। ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে পোনার গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়। পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবেন চাষিরা।

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি লিয়াকাত হোসেন লিটন বলেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে পাল্টে যাবে মৎস্য খাত। এই খাতে জেলায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

পদ্মা সেতু চালুর ফলে জেলার মাছচাষিদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেন বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে ঢাকায় যেতে ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগে, পদ্মা সেতু চালুর ফলে এখন মাত্র ৪ ঘণ্টা লাগবে। এতে একজন চাষি সকালবেলায় মাছ ধরে দুপুরে ঢাকায় বিক্রি করতে পারবেন। তাছাড়া ময়মনসিংহ থেকে মাছের যে পোনা আসে তা ভালোভাবে পৌঁছাতে পারবে। এতে পোনার গুনগতমানও ভালো থাকবে।

এস এম সামছুর রহমান/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]