ছিনতাই মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছর কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫:২৪ পিএম, ৩০ জুন ২০২২
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারে দিনদুপুরে কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের দায়ে দুই ছিনতাইকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া একই মামলায় আরেক ছিনতাইকারীকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয়মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ ও বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসেন রায়ের এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন- কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছরা এলাকার আবুল কালামের ছেলে আবু ছিদ্দিক (৩৫), কক্সবাজার সদরের গাজীর ডেইলের মমতাজের ছেলে মনির আলম (২০)। এছাড়া অপর দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন কক্সবাজার খুরুশকুলের তেতৈয়ার এলাকার সৈয়দুল আমিনের ছেলে মো. সেলিম ওরফে পুতু (২০)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিবিএ দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরুল ইসলাম (২২) ও টেকনাফের হ্নীলার জাদিমুরার ওয়াহিদ মুরাদ (২০) টমটম যোগে যাচ্ছিলেন। তারা শহরের হিলডাউন সার্কিট হাউজের গেটের সামনে পৌঁছালে দণ্ডপ্রাপ্তরা গাড়ির গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কাছে থাকা সবকিছু বের করে দিতে বললে ইমরুল প্রতিবাদ করেন। তখন আবু ছিদ্দিক ও মুন্না ধারালো ছোরা দিয়ে ইমরুলের শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম ও হাতের রগ কেটে ফেলেন। এসময় ওয়াহিদ মুরাদ এগিয়ে আসলে অপর আসামিরা তাকেও মারধর করেন। আসামিরা তাদের নগদ টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়। এ ঘটনায় ইমরুলের বড় ভাই রবিউল হাসান ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ আসামিদের শনাক্ত করে। গ্রেফতারের পর আসামি আবু ছিদ্দিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়া মামলার ২নং আসামি মুন্না হাসান ওরফে আমিন ঘটনার চারদিন পর দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা মুন্নাকে বাদ দিয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

মামলাটি বিচারের জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হলে বিচারক ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ সব বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আবু ছিদ্দিক ও মনির আলম রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে ১০ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সেলিম ওরফে পুতু পলাতক।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]