পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে মেলে সোনা-রুপার গহনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও।

তিন মাস ২০ দিন পর শনিবার (২ জুলাই) সকালে মসজিদের আটটি সিন্দুক খুলে সাড়ে ১৬ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গণনা।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

তিনি বলেন, সকাল ৮টায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঈদগাহ কমিটির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে সব টাকা ঢেলে গণনা শুরু হয়। কিশোরগঞ্জ রুপালী ব্যাংকের ৫০ জন কর্মকর্তা, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মসজিদ কমপ্লেক্স মাদরাসার ১৫০ জন শিক্ষার্থী সারা দিন টাকা ভাঁজ ও গণনার কাজে অংশ নেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

এর আগে গত ১২ মার্চ এসব দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গত বছরের ৬ নভেম্বর এসব দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৩ কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা।

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। মসজিদটিতে মোট আটটি লোহার দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর এসব বাক্স খোলার রেওয়াজ রয়েছে। দানবাক্স ছাড়াও এ মসজিদে প্রতিদিন হাঁস-মুরগি, ফল, খাসিও দান করা হয়।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

জনশ্রুতি আছে, কোনো এক সময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝামাঝি প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী জায়গায় জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

মুসলিম ও হিন্দু-নির্বিশেষে সব ধর্ম-বর্ণের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। ওই পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পিরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী। কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশ-বিদেশের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। এ মসজিদে মানত কিংবা দান-খয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এই মসজিদে।

নূর মোহাম্মদ/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]