‘ত্রাণের চালে আমাদেরই চলে না, গরুকে কী খাওয়াব?’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:১৩ এএম, ০৩ জুলাই ২০২২

অডিও শুনুন

হবিগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঘাস, কচুরিপানা, খড় কিছুই নেই। সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। পশুগুলোর থাকারও জায়গা নেই। মানুষের সঙ্গেই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে পশুগুলোকে।

বন্যায় ৫টি উপজেলার ৭০ শতাংশ পশু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো পশু মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ৫ উপজেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গোচারণ ভূমিসহ নিচু এলাকা। অনেক স্থানে বাড়িঘরও তলিয়ে গেছে। তাই পশুগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে রাখতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আজমিরীগঞ্জের ৫টি ইউনিয়ন, নবীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়ন এবং বানিয়াচংয়ের ১০টি ইউনিয়ন।

বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আইরামুগুড় গ্রামের পূণ্য লক্ষ্মী বলেন, আমাদের নিজেদেরই খাদ্য নাই, গরুকে কিভাবে খাওয়াই? হাওর থেকে কিছু লতাপাতা কেটে খাওয়াই। ত্রাণের ২-৩ কেজি চাল দিয়ে আমরাই চলতে পারি না, গরুকে কী খাওয়াবো? গরুরতো কোনো খাদ্য দেয় না।

গীতা রাণী দাস বলেন, নিজের খাদ্যই পাই না, গরু-ছাগলের খাদ্য কোথায় পাব? পশুর কোনো খাদ্য পাইনি। ওষুধপত্রও পাই না। কিভাবে গরু, ছাগল বাঁচাই> পানিতো আমাদের সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

Cow-(1)

তিনি বলেন, আমাদের একেক পরিবারে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। কিন্তু আমাদের ২-৩ কেজি চাল, আর আধা কেজি চিড়া দেওয়া হয়। এতে আমাদের কিভাবে চলে?

সরেজমিন বানিয়াচং উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীর গতিতে পানি নামছে। গত কয়েক দিনে সামান্য কিছু পানি নামলেও এখনও বাড়িঘরে পানি রয়েছে। ডুবন্ত রয়েছে অনেক রাস্তাঘাট। এখনও প্লাবিত রয়েছে ৬৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। বন্যায় পানিবন্দি আছে লক্ষাধিক মানুষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৩৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে ১৯ হাজার ৩৬১ জন মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে গবাদি পশুরাখা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৭টি। দুর্গতদের জন্য ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৬০ মেট্রিক টন। শুকনো খাবার ৪ হাজার প্যাকেট ও নগদ ২০ লাখ টাকা। পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]