নেত্রকোনায় ৪০ ঘণ্টায় বন্যার পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৭:৩০ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২
ফাইল ছবি

নেত্রকোনার তিন উপজেলায় গত ৪০ ঘণ্টায় বন্যার পানিতে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রোববার (৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটে।

এদের মধ্যে নেত্রকোনার আটপাড়ায় পানিতে ডুবে সুলতান নামে দেড় বছরের এক শিশু মারা গেছে। রোববার দুপুরে বন্যায় প্লাবিত নিজ বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয় শিশুটির। সুলতান উপজেলার গোপালাশ্রম গ্রামের টিপু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা সকালে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ ঘরের মধ্যে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। দুপুরে দিকে শিশুটিকে বাড়ির সামনে পুকুরে ভাসতে দেখে প্রতিবেশীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর ইকবাল পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের উতিয়ারকোনা গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুরা হলো- উতিয়ারকোনা গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার মেয়ে সাবিলা আক্তার (৭) ও মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (৯)।

পরিবারের বরাত দিয়ে মোহনগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাড়ির পাশের একটি সেতুর কাছে কয়েকজন শিশু খেলা করছিল। হঠাৎ পানিতে পড়ে যায় শিশু সাবিলা। তাকে তুলতে পানিতে নেমে চেষ্টা চালায় মার্জিয়া। একপর্যায়ে পানির স্রোতে তারা দুজনই তলিয়ে যায়। এই ঘটনা দেখে অন্য শিশুরা বাড়িতে খবর দেয়। প্রথমে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাছ ধরার জাল দিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এদিকে, কলমাকান্দা উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে নুসরাত জাহান নামে তিনবছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই উপজেলার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের চিনাহালা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে ঘটে।

শিশু নুসরাত জাহান ওই গ্রামের মো. সোহেল মিয়া ও মোসা. পারভীন আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। মৃতের বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন ও মা পেশায় শ্রমিক বলে জানা গেছে।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চিনাহালার বিলের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি। বর্তমানে বাড়ির চারিদিকে বন্যার পানি। বন্যার খবর পেয়ে তিনদিন হলো মৃতের মা পারভীন ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বাদ আসর ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ওই সময় নুসরাত বারান্দায় খেলছিল। এরই কোনো ফাঁকে সবার অজান্তে বাড়ির সামনে বেঁধে রাখা নৌকায় উঠে পা পিছলে বন্যার পানিতে পড়ে যায় সে। পরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির চারিদিকে বন্যার পানিতে নেমে খোঁজাখুজি করে সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়ির লোকজন নুসরাতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামীম রানা শাকিল বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আহাদ খান পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ না থাকায় ওই রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

এইচ এম কামাল/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]