দেড় বছর পর ছেলের হাতে বাবা খুনের রহস্য উদ্ঘাটন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দেড় বছর পর একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে হযরত আলী নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করেন তার ছেলে জাহাঙ্গীর। তাকে মরদেহ গুমে সহযোগিতা করেন নিহতের নাতি আসিফ।
রোববার (৩ জুলাই) রাতে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিহতের নাতি আসিফকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। তিনি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ৩ মার্চ সকালে মির্জাপুর উপজেলার দেওভোগ দক্ষিণপাড়ার একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় হযরত আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথম পর্যায়ে এ ঘটনাটি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও সম্প্রতি পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহতের নাতি আসিফকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসিফ পুরো ঘটনা তুলে ধরেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, হযরত আলী ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ভাগাভাগি এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। মূলত এ কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আসিফ ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত আলীর বাড়িতে যান। ওইদিন দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর হযরত আলী জাহাঙ্গীরকে তার সঙ্গে পুকুর পরিষ্কার করার জন্য যেতে বলেছিলেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর পুকুর পরিষ্কার করতে যাননি।
এসময় হযরত আলী তার ছেলে জাহাঙ্গীরকে বকাবকি করেন এবং তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। পরে সন্ধ্যায় হযরত আলী তার নাতি আসিফ ও বড় ছেলে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে মাছ ধরার জন্য পুকুরে যান। তখন জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একটি কাঠের লাঠি ছিল। তারা সবাই টর্চলাইট জ্বালিয়ে পুকুরের মাছ ধরছিলেন। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর বাবাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। এসময় আসিফকে তার মামা জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করেন।
একইসঙ্গে মরদেহ গুম করার জন্য সহযোগিতা করতে বলেন। মরদেহ গুম করতে সহযোগিতা না করলে তাকেও হত্যা করে গুম করার হুমকি দেন জাহাঙ্গীর। পরে জাহাঙ্গীর বাবার মরদেহ পুকুরের একপাশে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখেন।
পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এরই মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নিহতের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লা গ্রেফতার হয়ে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।
আরিফ উর রহমান টগর/এমআরআর/এমএস