নষ্ট সড়কবাতিতে ভুতুড়ে মহাসড়ক
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) দেওহাটা থেকে পোস্টকামুরি চড়পাড়া পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার সড়কে জ্বলছে না শতাধিক সড়কবাতি। এতে বিরাট ওই এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
২০২০ সালে দেওহাটা থেকে চড়পাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯২টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। সড়কটির তিন কিলোমিটার এলাকায় মির্জাপুর পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত।
মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) দেওহাটা থেকে পোস্টকামুরি চড়পাড়া পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার এবং মির্জাপুর-উয়ার্শী সড়কের দেওলী ব্রিজ এলাকায় ৪১০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহ্বান করে। এই উন্নয়নকাজের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে যশোরের মাইনউদ্দিন বাশি নামে এক ঠিকাদার কাজটি পান। ২০১৯ সালে কাজটি শুরু হয় এবং ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হয়। সড়কের দু’পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। ড্রেনের ওপর ঢালাই (ডাকনা) দিয়ে টাইলস স্থাপন করে তিন ফুট প্রশস্ত ফুটপাথ তৈরি করা হয়। রাতে আলোকিত করতে লোহার পাইপে মহাসড়কের পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯২টি রঙিন বাতি স্থাপন করা হয়, যার প্রতিটিতে খরচ হয়েছে ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।
ওই প্রকল্পের এই বাতি স্থাপনের আগে মির্জাপুর পৌরসভা থেকে মহাসড়কের দুই পাশে বাতি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের বাতি স্থাপনের পর পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখে। প্রকল্পটির অধীনে বাতি স্থাপনের পর ২৪ মাসের মধ্যেই প্রায় সব বাতি বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বাতি বন্ধ থাকায় রাতে মাদক বিক্রি ও ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘঠিত হয় বলেও এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।
সরেজমিনে মহাসড়কের দেওহাটা থেকে পোস্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব বাতি বন্ধ। যেসব বাতি জ্বলছে সেখানে একটু আলোকিত, আবার যেসব বাতি জ্বলছে না সেখানে ভুতুড়ে অন্ধকার।

এ সময় উপজেলা পরিষদের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রবেশমুখ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসা হয়ে বারোখালী ব্রিজের পূর্বপার পর্যন্ত এবং ব্রিজের পশ্চিম পাড় থেকে বাইমহাটী ছাপড়া মসজিদ পর্যন্ত খুঁটির বাতি বন্ধ দেখা যায়। এতে সড়কটিতে মাদক বিক্রি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ডাকাতির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠনের পর রাস্তায় আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় বিদ্যুতের আলোয় রাস্তায় চলাফেরা করি। মহাসড়কে হঠাত আলো বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধু ভোগান্তি নয়, ভয়ও কাজ করে। সড়কবাতি থাকলে এ সমস্যা হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জাপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পৌরসভার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে বাতি জালানোর ব্যবস্থা ছিল। নষ্ট হলে মেরামত করা হতো। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে সড়কবাতি স্থাপন করায় পৌরসভার বাতিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথের স্থাপিত সড়কবাতি নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে কয়েকটি জ্বললেও প্রায় সব বাতিই বিকল হয়ে আছে। সড়ক বাতি না জ্বলায় মহাসড়কের ওইসব স্থানে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মাইনউদ্দিন বাশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও সড়ক ও জনপথ মির্জাপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার দুইপাশে ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় লাইটের খুঁটিগুলো নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধান সুইচ শটসার্কিট হওয়ায় বাতিগুলো বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সহায়তায় বাতিগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এসএম এরশাদ/এফএ/এমএস