‘লস করে যাত্রীসেবা দেওয়া সম্ভব না’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১১:৫৬ এএম, ০৬ আগস্ট ২০২২

বাস ভাড়া না বাড়িয়ে হঠাৎ তেলের দাম বাড়ানোয় সাতক্ষীরা থেকে বেশিরভাগ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। শনিবার (৬আগস্ট) সকালে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কিছু বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও অধিকাংশ যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারে বসে থেকেও বাস পাননি। আগে থেকে টিকিট ক্রয় করা যাত্রীদের কাছ থেকেও আদায় করা হয়েছে বাড়তি ভাড়া। ফলে বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।

অপরদিকে আঞ্চলিক রুটে চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যা কমেছে। সড়কে চলাচলরত যানবাহনে আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া।

এ বিষয়ে জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি তাহমিদ হোসেন চয়ন জাগো নিউজকে বলেন, বাস ভাড়া সমন্বয় না করেই সরকার হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি করায় মালিকরা বিপাকে পড়েছে। লস করে এই মুহূর্তে যাত্রী সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া ধর্মঘটের বিষয়ে মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের এখনো কোনো সীদ্ধান্ত জানায়নি। কেউ কেউ আপাতত টিকিট বিক্রি ও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। তবে কোনো পরিবহন যদি চলাচল করে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

ঢাকার গাজীপুরে কর্মরত বাসযাত্রী মহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার ছুটিতে সাতক্ষীরায় গ্রামের বাড়িতে এসেছিলাম। রোববার সকালে অফিস করা লাগবে এজন্য শনিবার ঢাকায় যাওয়ার জন্য এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহনে অগ্রীম টিকিট কেটেছি। সকালে কাউন্টারে আসার পর কাউন্টার ম্যানেজার বলছে, বাড়তি একশ টাকা দিতে হবে। না হলে বাস যাবে না। আমিসহ অন্য যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি।

একই অভিযোগ ঢাকাগামী যাত্রী আসাদুল ইসলামের। তিনি বলেন, ৭শ টাকার টিকিট ৮শ টাকায় নিতে হয়েছে। সকাল থেকে অনেক বাস সাতক্ষীরা ছেড়ে যায়নি। নতুন টিকিট বিক্রি বন্ধ। আগে যাদের টিকিট কাটা ছিল শুধুমাত্র তারা বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যেতে পারছেন।

Sat-(2)

অন্য বাস কাউন্টারগুলোতেও একই অবস্থা। অগ্রীম টিকিট ক্রয় করা যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে সকালে কিছু বাস ছাড়া হয়েছে। সকাল থেকে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে অনেক যাত্রী বাড়ি ফিরে গেছেন।

সকালে টিকিট কিনতে আসা যাত্রী মোশারফ হোসেন বলেন, রাতে ঢাকায় যাব বলে টিকিট নিতে এসেছিলাম। কিন্তু বেশিরভাগ কাউন্টার টিকিট বিক্রি করছে না। যারা বিক্রি করছে তারা ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাড়া না বাড়িয়ে হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে তারা লোকশান দিয়ে যাত্রী পরিবহন করবেন না। তবে কোনো কোনো পরিবহন আগের ভাড়া নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।

বাসচালক কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মালিক মহাজন যদি বাস চালাতে না দেয় তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। পরিবহন ভাড়া না বাড়িয়ে হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধি করা উচিত হয়নি। এতে যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগে পড়বে তেমনি কাজ বন্ধ থাকায় আমরাও কষ্টে থাকব।

এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মিলন কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, মালিক পক্ষ থেকে বাস বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আপাতত আমাদের টিকিট বিক্রি বন্ধ। তবে যারা গতকাল টিকিট কিনেছেন তাদের জন্য একশ টাকা বাড়তি ভাড়া নিয়ে সকালে কয়েকটি বাস ছাড়া হয়েছে। মালিক সমিতি থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতা সাইফুল করিম সাবু জাগো নিউজকে বলেন, আঞ্চলিক রুটে অল্প কিছু বাস চলাচল করছে। হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। আশা করছি সরকার এ বিষয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে বসে ভাড়া নির্ধারণ করে দেবে। তখন এই সমস্যা থাকবে না। তবে আমরা ধর্মঘটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]