প্রধান শিক্ষক হয়েও যান না বিদ্যালয়ে, করেন ঠিকাদারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৫:০৫ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তবে বিদ্যালয়ে যান না ঠিকমতো। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা ছাত্রদের দিয়ে স্কুলে পাঠদান করান। মাস শেষে সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নেন বেতন।

এমন অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাঁকনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কাঁকনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ১৫৬ জন। ১৯৮৯ সালের ১ এপ্রিল ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর। যোগদানের ২৪ বছর পর ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

jagonews24

তার স্ত্রীর নামে ‘মেসার্স মাস্টার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঠিকাদারি কাজেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন আব্দুল গফুর। এজন্য ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন ‘গফুর ঠিকাদার’ হিসেবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না আব্দুল গফুর। রুটিনে থাকা নিজের নামে ক্লাসগুলো এসএসসি ও এইএচএসসি পাস করা ছেলেদের দিয়ে করান।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি এভাবে চলতে থাকায় বাকি তিনজন সহকারী শিক্ষকও এখন সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে সময়মতো শিক্ষকদের না পাওয়ায় পড়ালেখার আগ্রহ হারাতে বসেছে। এসবের প্রতিকার চেয়ে গত ১৮ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

কাঁকনসী গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক এখন প্রভাবশালী ঠিকাদার। মাসে দু-একদিন বিদ্যালয়ে আসেন। তাহলে পড়ালেখা কীভাবে হবে? এলাকার বিভিন্ন বেকার ছেলেদের মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেতন দিয়ে তিনি তার ক্লাস করিয়ে নেন। এখানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।’

তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করতে চানি বিদ্যালয়ের বাকি তিনজন সহকারী শিক্ষক।

jagonews24

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমার রুটিনে থাকা ক্লাসগুলো কখনোই অন্যজনকে দিয়ে করানো হয়নি। সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজেই ক্লাসগুলো নিয়েছি।’

শিক্ষকতার পাশাপশি ঠিকাদারি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে বিএমডিএর (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) ঠিকাদারি লাইসেন্স রয়েছে। আমি শুধু কাজগুলো মাঝেমধ্যে দেখভাল করি। নিজের নামে যেহেতু লাইসেন্স নেই, সেহেতু চাকরিতে এই লাইসেন্সের কোনো প্রভাব পড়বে না।’

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। একজন প্রধান শিক্ষক কখনোই ঠিকাদারির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্বাস আলী/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।