বাসে ডাকাতি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: আরও দুজনের স্বীকারোক্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

টাঙ্গাইলে বাসে ডাকাতি ও যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মূলপরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন ও আব্দুল মান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নওরিন করিমের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রতনসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রিমান্ডে থাকা চারজনকে আদালতে তোলা হয়। এর মধ্যে ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন ও আব্দুল মান্নান আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে হাসমত আলী ওরফে দীপু ও জীবন প্রামাণিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পরে চারজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, এ মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা সবাই টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছেন।

স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন- মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন, রাজা মিয়া, আউয়াল, নুরনবী, আব্দুল মান্নান, সোহাগ মণ্ডল, বাবু হোসেন জুলহাস, আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান, রাসেল তালুকদার, আলাউদ্দিন ও নাঈম সরকার। এছাড়া জীবন প্রামাণিক ও হাসমত আলী ওরফে দীপু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

গত ২ আগস্ট কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাস সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে যাত্রীবেশি ডাকাতরা গাড়িতে ওঠেন। টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর তারা অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে যাত্রীদের টাকা পয়সা, মুঠোফোন, গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেন। এসময় বাসের এক নারী যাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত আলী বাদী হয়ে বুধবার মধুপুর থানায় ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলা করেন।

পরে নৈশকোচে যাত্রীবেশে ডাকাতি ও এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত রোববার রাতে ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোরে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে মূলহোতা রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল জেলা ডিবি পুলিশ। পরের দিন শুক্রবার ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সোহাগপল্লী থেকে মো. আউয়াল ও নুরনবী নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার ওই তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আরিফ উর রহমান টগর/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।