বিদ্যালয়ে অনিয়মের তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারীর ওপর হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:১২ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২২
হামলার শিকার আমিনুল ইসলাম

নওগাঁয় কাঁকনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত চলাকালে তদন্ত কমিটির সামনেই এক অভিযোগকারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাঁকনসী গ্রামে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহতাবস্থায় আমিনুল ইসলাম (৩৩) নামে এক অভিযোগকারী নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তদন্ত পিছিয়ে অভিযোগকারীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাঁকনসী গ্রামে কাঁকনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ১৮ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করে এলাকাবাসী। অভিযোগের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শুরু হচ্ছিল না। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে শিক্ষা বিভাগ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সেখানে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর ও সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ বিদ্যালয়টির অভিভাবক সদস্যরাও উপস্থিত হন। অভিভাবক সদস্যদের একত্রিত করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের অভিযোগ শুনছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ওই মুহূর্তে অভিভাবক সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম এবং অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বর্ণনা দিতে শুরু করলে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে বাকি অভিভাবক সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি দেখে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছুটে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

jagonews24

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার শাহীনুর, লতিফ, ইদুলসহ কয়েকজনের দাবি, প্রধান শিক্ষক একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার। তাই তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ে আসামাত্র বেশকিছু বহিরাগত লোকজন বিদ্যালয়ে আনেন তিনি। পাশাপাশি সভাপতি তার পরিবারের লোকেদের এনে মাঠে অবস্থান করছিলেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাদের কাছে অভিযোগের বিস্তারিত শুনছিলেন। তাদের সামনেই অভিযোগকারীদের জিভ কেটে নেওয়াসহ নানাবিধ হুমকি দিচ্ছিলেন সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক। একপর্যায়ে তারা এই হামলার ঘটনায় ঘটিয়েছেন।

হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আমিনুল ইসলাম বলেন, সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের নানাবিধ প্রমাণ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের সামনে উপস্থাপন করছিলাম। ওই মুহূর্তে সভাপতির বড় ভাই আব্দুল মান্নান আকস্মিক আমার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেছে। মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লেও তারা কিল-ঘুষি মারা অব্যাহত রেখেছিল। গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে সময়মতো হাসপাতালে এনেছে বলে প্রাণে বেঁচে গেছি। মাথায় তিনটা বড় সেলাই দিতে হয়েছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট নওগাঁর কর্মচারী আব্দুল মান্নান বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় গ্রামে এসেছি। ভাই যেহেতু বিদ্যালয়ের সভাপতি, তাই তদন্ত চলাকালে মাঠে দেখতে গেছি। সেখানে হঠাৎ করেই আমার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়। আব্বা, চাচা, ভাই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমার বিরুদ্ধে কাওকে ইট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগটি সঠিক নয়।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে অভিযুক্তপক্ষের একজনকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর গফুরের মুঠোফোনে একাধিকার কল দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাটোর সমবায় অফিসের কর্মচারী ও বিদ্যালয়টির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, একটিপক্ষ আমাকে সভাপতি পদ থেকে সরাতে নানারকম অপপ্রচার করছে। তদন্ত কমিটির সামনে আমরা সপরিবারে মার খেয়েছি, কাওকে মারিনি।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, তদন্ত চলাকালে সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পাশের পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তাদের সামনেই হামলা হয়েছিল কি না, প্রশ্ন করলে পরে মন্তব্য করবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভীন বলেন, কাঁকনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়টি জানি না। সেখানে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের পক্ষে তদন্ত করা সম্ভব না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে।

আব্বাস আলী/এমআরআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।