৪০ লাখ টাকার সেতুতে উঠতে লাগে বাঁশের সাঁকো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবানের রাজবিলা ইউনিয়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি স্থানীয়দের কোনো কাজে লাগছে না। নিরুপায় হয়ে যাতায়াতের জন্য পাড়াবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন।

শনিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় গিয়ে কেংড়াছড়ি খালের ওপর নির্মিত সংযোগ সড়কবিহীন ওই সেতুটি দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেংড়াছড়ি পাড়ায় ৬০টি পরিবারের তিনশোর বেশি লোকজনের বসবাস। তাদের মধ্যে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪০ জনের অধিক। ওই খালটির ওপর দিয়েই সবাইকে চলাচল করতে হয়। তবে বর্ষাকালে খালে পানি বেড়ে গেলে যাতায়াতে তাদের ভোগান্তির অন্ত থাকতো না। এসব দিক বিবেচনায় পাড়াবাসীদের চলাচলের সুবিধার্থে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হয়। এরপর প্রায় তিন বছর কেটে গেলেও কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না সেতুটি।

পাড়ার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিষা তঞ্চঙ্গ্যা জানায়, শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় সেতুর নিচ দিয়ে হেঁটে পারাপার হয়ে স্কুলে যায় তারা। এখন বর্ষায় খালে পানি বেশি হওয়ায় হেঁটে পার হওয়া যায় না। বৃষ্টি বেশি হলে অনেক দিন স্কুলেও যাওয়া যায় না। তাই পাড়াবাসী মিলে সেতুতে ওঠার জন্য শুক্রবার (১২ আগস্ট) বাঁশের বেড়া দিয়ে সংযোগ তৈরি করেছে।

পাড়ার আরেক বাসিন্দা ধর্মচরণ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এই কেংড়াছড়ি পাড়াতে তিনশোর অধিক জনগণের বসবাস। রয়েছে প্রায় ৪০ জনের অধিক স্কুলপড়ুয়া শিশু। বর্ষায় খালটি পারাপার হতে অনেক সমস্যা হয়। উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত সংযোগ সড়কবিহীন এই সেতুটি দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই পাড়াবাসী খালটি পারাপারের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি ব্যবহার করতে বাঁশ দিয়ে পাটাতন তৈরি করেছে।

রাজবিলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ক্য অংপ্রু মারমা জানান, কেংড়াছড়ি খালের ওপর সংযোগ সড়কবিহীন উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। এ নিয়ে উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন এবং গত সপ্তাহে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রতন সেন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তার লাইসেন্সে উন্নয়ন বোর্ডের ৩৬ বা ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দে রাজবিলার কেংড়াছড়ি খালের ওপর ঠিকাদার আরিফ সেতুটি নির্মাণ করেছিলেন। কাজ শেষ হওয়ায় ফাইনাল বিলও উত্তোলন করা হয়েছে। জামানত উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আরিফ বলেন, দৈর্ঘ্য ৫০ ফিট ও প্রস্থ ১০ ফিট ব্রিজটি নির্মাণের বরাদ্দ তৈরিতে উন্নয়ন বোর্ড ভুল করায় সংযোগ সড়কসহ পূর্ণাঙ্গ সেতুর কাজ করতে পারিনি। তবে কাজের বিল উঠিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বান্দরবান পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমে একটি কালভার্ট চেয়েছিল স্থানীয়রা। পরে পর্যবেক্ষণ করে ব্রিজের অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ায় ঠিকাদারকে ৪০ লাখ টাকার পুরো বিল পরিশোধ করা হয়। সংযোগ সড়কের জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসে আরও ২০ লাখ টাকা অ্যাপ্রোচ করা হয়। যেটি ক্য অং প্রু পেয়েছে। আজ (রোববার ১৪ আগস্ট) থেকে কাজ চলছে।

নয়ন চক্রবর্তী/এমআরআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।