বেলকুচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: দালালের উপদ্রবে অতিষ্ঠ রোগীরা
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫-২০ দালালের আনাগোনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মূল ফটক থেকে চিকিৎসকের চেম্বার পর্যন্ত পুরো হাসপাতাল জুড়ে দালালদের অবাধ বিচরণ ও আধিপত্য বলে অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব চিকিৎসকের চেম্বারের ভেতরে ও বাইরে একজন করে দালাল চক্রের সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। রোগীদের সমস্যার কথা শুনে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া মাত্র তা রোগীর হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছে প্যাথলজি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা বেসরকারি হাসপাতালের নিয়োগ করা সেই দালাল চক্রের সদস্যদের হাতে। ডাক্তারের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে দালাল ছুটে চলেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দিকে আর রোগীরা ছোটেন দালালের পেছনে। এতে করে রোগীদের যেমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে রোগীদের গুনতে হচ্ছে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রে দেওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা।

উপজেলার রাজাপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আসাব উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী রোগী বলেন, বেলকুচি হাসপাতালটি এখন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টারের দালালের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছ। এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসন বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নীরব। আমরা সাধারণ রোগীদের এদের কাছে জিম্মি হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
ধুকুরিয়া বেড়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগী রহিমা বেগম বলেন, অনেকদিন হলো পেট ব্যথা করছে। ডাক্তার দেখিয়েছি। কিছু পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু প্রেসক্রিপশন নিয়ে বের হওয়ার সময় এক লোক আমাকে ডাক দিয়ে বললো, চাচি আপনার হাতে কাগজটা দেন। আমি কাগজটা দেওয়া মাত্রই বললো আপনাকে তো পরীক্ষা করাতে হবে। চলেন আমার সঙ্গে। আমি যেখানে নিয়ে যাই সেখানে কম খরচে টেস্ট করানো যায়। সে আরও বললো, তার ওখানে টেস্ট না করালে ডাক্তার রিপোর্ট দেখবে না। তাই অসহায় হয়ে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে টেস্ট করালাম। এখন বসে আছি, ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখিয়ে ওষুধ লিখে নিয়ে যাবো।
হাবিব আহম্মেদ নামে আরেক রোগী বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই হাসপাতালে প্রায় ১৫-২০ জন দালাই বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। এদের জ্বালায় ডাক্তারের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলা যায় না। হাসপাতালের ডাক্তাররাও এদের কিছু বলে না। কী কারণে বলে না তাও আমরা জানি না। শুধু আজ নয় এর আগেও যে কয়েকবার এসেছি এদেরকে এভাবেই দেখেছি। এদের জ্বালাতনে এখানে আসা রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে পড়ে গেছি মহাবিপদে।

দালালের উপদ্রবের বিষয়টির স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দেশে করোনার প্রকোপ যখন বেড়ে গিয়েছিল তখন ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে প্রত্যেকটা চেম্বারে একজন করে লোক থাকতো। তারা এখনো রয়েছে। তবে এদের কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। যেসব ডাক্তারের রুমে থাকে সেসব ডাক্তার তাদের কিছু সম্মানি দেন।
তিনি আরও বলেন, আগে এদের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। আমরা বেশ কয়েকজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের করে দিয়েছি। তারাই এখন বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রোগীদের বিরক্ত করছে। তবে এই বিরক্তির পরিমাণ এখন কমে গেছে।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, দালাল সম্পর্কিত কোনো তথ্য আমাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ দেয়নি। আজকেই জানতে পারলাম। খুব দ্রুত সময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দালালমুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে।
এমআরআর/জিকেএস