ফেনীতে কিশোর গ্যাং দমনে ‘ডাটাবেজ’
ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বখাটেরা। ক’দিন আগে এক ছাত্রীকে পথ শিশুদের দিয়ে হেনস্থা করা হয়। একইভাবে ফেনী সরকারি কলেজ, জিয়া মহিলা কলেজসহ শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে বখাটেদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো।
রোববার (২১ আগস্ট) সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শহরে নয়, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রবের শিকার সব বয়সী নারীরা। শহরের আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার মাদরাসা এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই বখাটে লাপাত্তা।
গত বুধবার শহরতলীর পাঁচগাছিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং করায় স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ নেতা (বহিষ্কৃত) রিয়াদ হোসেন ও সাজ্জাদ হোসেন সায়েমের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এরপর থেকে পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।
এর আগে কিশোর গ্যাংয়ের নির্মমতার শিকার হয়ে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর এলাকার সজিব নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, উঠতি বয়সী কিশোররা দলবদ্ধ হয়ে ইভটিজিংসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এদের উৎপাতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। শহরের পাড়া-মহল্লার অলিগলি এমনকি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে ‘গ্যাং কালচার’।
সূত্র জানায়, ১৫-২০ জনের এসব কিশোরদের সংঘবদ্ধ দল বেশির ভাগই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করতে সাহস করে না। উঠতি এসব ছেলেদের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহার করা হয়। এদের নানা অপরাধের পেছনে রয়েছে কথিত বড় ভাইদের হাত।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের উদ্যোগে কিশোর গ্যাং ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকাভিত্তিক এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে ডাটাবেজ থেকে তার নামও বাদ দেওয়া হবে। জেলার ৬ থানা ও নিজ নিজ এলাকায় বিট অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) নাদিয়া ফারজানা জানান, গ্যাং কালচার অপরাধ নির্মূল করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনজীবন বিঘ্নিত হয় এমন কাজ কোনভাবেই করতে দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আইনের আওতায় আনছে।
তিনি আরও বলেন, ডাটাবেজ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নিজকে শুধরে নিলে ডাটাবেজ থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে। অনেক সময় দেখা যায় সন্তান কী করে তা অভিভাবক জানেই না। অনেকে অভিভাবকদের কথাও শুনতে চায় না। অনেকের অভিভাবকদের ডেকে এনে বোঝানোর চেষ্টা করছি। তবে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আরএইচ/জেআইএম