অ্যান্টিভেনম সংকট: ফেনীর সাপে কাটা রোগী পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রামে
সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করার অ্যান্টিভেনম নেই ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। তাই সেখানে সাপে কাটা রোগী এলে পাঠাতে হচ্ছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। কিন্তু বিষধর সাপে কাটা রোগীর হাতে সময় থাকে দুই ঘণ্টার কম। তাই ওই দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে গিয়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে বিষধর সাপে কামড়ানো আরিফুল ইসলামকে (১২) নিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আসে তার পরিবার। কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেনম না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু পথে যানজটের কারণে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে কিছুটা বেশি সময় লেগে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের পল্লিচিকিৎসক নুরুল আলমের ছেলে আরিফুল স্থানীয় বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। নুরুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, সময়মতো ভ্যাকসিন পেলে হয়তো তার ছেলেকে বাঁচানো যেত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার কথা। তারপরও ফেনী সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকায় নিকটবর্তী উপজেলায় না পাঠিয়ে চিকিৎসকেরা দূরের বিভাগীয় শহরে সাপে কাটা রোগীদের পাঠাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সোমবার (২২ আগস্ট) ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে চাহিদামতো অ্যান্টিভেনম পাওয়া যাবে।
ফেনীর সিভিল সার্জন রফিক উস ছালেহীন বলেন, ফেনী জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তবে জেলা হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা সম্ভব না হলে তাকে বিভাগীয় শহরে পাঠানোর নিয়ম। সাপে কামড়ানো রোগীকেও তাই উপজেলায় পাঠানো হয়নি।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/এমএস