গৃহবধূর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০২২
টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে গৃহবধূ রূপার স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গৃহবধূ রূপার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্বজনদের পক্ষে দিতে দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বুধবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূর বাবা মো. ছানোয়ার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছানোয়ার জানান, প্রায় আট বছর আগে কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের তেজপুর গ্রামের মোজাম্মেল তালুকদারের ছেলে মিঠু তালুকদারের সঙ্গে তার মেয়ে রূপা আক্তারের বিয়ে হয়। তিনি বিয়ের পর মিঠুকে বিদেশে যাওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দেন। এক বছর পর মিঠু দেশে ফিরে রূপাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেন। টাকা না দেওয়ায় রূপা আক্তারের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাতে থাকেন মিঠু। এ কারণে রূপা তার স্বামীকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। বিয়ে বিচ্ছেদের প্রায় ছয় মাস পর মিঠু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় রূপাকে পুনরায় বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর মিঠু ফের স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করেন।

রূপার বাবা জানান, নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের একপর্যায়ে রূপা স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় মিঠু রাস্তা থেকে জোর করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়ি নেওয়ার পর রূপার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে তাকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। চলতি বছরের ১৮ মার্চ সকালে লোকমুখে খবর পেয়ে তিনি মিঠু তালুকদারের বাড়িতে গেলে তাকে জানানো হয়- রূপা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে রূপাকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে মেয়ের মরদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ মরদেহ মর্গে নেওয়ার সময় তিনি রূপা আক্তারের কবজির রগ কাটা অবস্থায় দেখতে পান।

লিখিত বক্তব্যে ছানোয়ার হোসেন দাবি করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন, রূপা আক্তারের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে আনতে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এত বেশি টাকা দিতে অস্বীকার করায় এসআই আল-আমিন তাকে ধমক দিয়ে বলেন, আসামিপক্ষ তাকে তিন লাখ দিয়েছে, দুই লাখ টাকা দিলে তিনি পক্ষে রিপোর্ট এনে দেবেন। এসময় রূপার বাবা থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এসআই আল আমিন কথা বলতে দেননি এবং থানায় অভিযোগ করতেও দেননি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-আমিন জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পক্ষে আনতে তিনি বাদীপক্ষের কাছে কোনো টাকা দাবি করেননি। গৃহবধূ রূপা আক্তারের বাবা সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে এবং যথাযথ কার্যাদি সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।