১০ টাকা কেজি চাল পেতে ১০০-৭০০ করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৩:২৯ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২২

বগুড়ার ধুনটে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের (মেম্বার) বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তথ্য হালনাগাদ করার নামে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ১০০-৭০০ করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার থেকে এ কাজের জন্য সুবিধাভোগীপ্রতি ১৫ টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৪ হাজার ৫০৯ জন অসহায় দরিদ্র মানুষকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। বছরে পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে সুবিধাভোগীরা ৩০ কেজি করে চাল পান। গত ১৩ জুন খাদ্য অধিদপ্তর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের জন্য স্ব স্ব দপ্তরে জনপ্রতি ১৫ টাকা করে ব্যয় ধরে চিঠি দেওয়া হয়। তবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৬ হাজার ৫৪৫ জন সুবিধাভোগীর অনলাইন নিবন্ধন করা হয়েছে।

সরেজমিন গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন ও ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে দেখা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রতিজন সুবিধাভোগীর কাছ থেকে ১০০-৭০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অন্য আট ইউনিয়নেও একই চিত্র।

গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমেনা খাতুন, পিয়ারা খাতুন, নুরজাহান, নাজনীন, তফুরা খাতুন, খুকি ধামসহ অনেকেই বলেন, ‘তথ্য অনলাইন (আপডেট) করার নামে কিনু মেম্বর আমাদের কাছ থেকে ৫০০-৭০০ টাকা করে নিয়েছেন।’

গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা সামাউন হাসান শিপন বলেন, ‘সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ করতে আমি টাকা আদায় করছি না। তবে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কী করছেন তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল করিম কিনু বলেন, ‘সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। তারা শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’

গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক বাচ্চু বলেন, সুবিধাভোগীদের কাছ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক না। আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন।

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছানোয়ার হোসেন, আলতাব হোসেন, আব্দুর রশিদ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রিনা রানীসহ অনেকেই বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা নাছিমা খাতুন তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নিয়ে অনলাইন করে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা নাছিমা খাতুন বলেন, ‘চেয়ারম্যান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি শুধু তা বাস্তবায়ন করছি। আপনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন।’

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, ‘উদ্যোক্তাসহ অফিস খরচ বাবদ সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কেউ এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করে থাকলে তার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না।’

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের অনলাইন ডাটাবেজ কাজের জন্য টাকা আদায়ের অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।