তিন বছর শিকলবন্দি ফরিদপুরের ওমর ফারুক

এন কে বি নয়ন এন কে বি নয়ন ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের সদরবেরা গ্রামের বাসিন্দা শেখ ওমর ফারুক (৪৮)। পাঁচ বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিন বছর ধরে শিকলবন্দি জীবনযাপন করছেন তিনি।

ওমর ফারুকের বাবার নাম আমিন উদ্দিন শেখ। মা ফুলি বেগম। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ওমর ফারুক দ্বিতীয়। স্বাভাবিক জীবনে থাকা অবস্থায় ওমর ফারুক কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে সামান্য মানসিক সমস্যা দেখা দেয় শেখ ওমর ফারুকের। এরপর তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর আরও বেশি মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তবে অর্থাভাবে দরিদ্র কৃষক বাবা-মায়ের পক্ষে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এরই মধ্যে ওমর ফারুকের বাবা মারা যান। জমি বিক্রি করে ছেলে ওমর ফারুকের চিকিৎসা করান মা ফুলি বেগম (৭২)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে তার অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। তার অস্বাভাবিক অবস্থা সামাল দিতে দিতে বেসামাল হয়ে পড়েছেন তার মা ফুলি বেগম এবং স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪২)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনেকটা বাধ্য হয়ে শেখ ওমর ফারুকের পায়ে ও কোমরে লোহার শিকল পরিয়ে রেখেছে তার পরিবার। তার পায়ে ও কোমরে শিকল পরানোর পর থেকে এখন তার দিন কাটে বসতঘরের পেছনে জীর্ণ একটি স্থানে।

শেখ ওমর ফারুকের স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের নাম রাবিয়া (৭)। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়ে। ছেলে ইলিয়াস শেখ (১৭) ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে।

শেখ ওমর ফারুকের মা ফুলি বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের চোখের আড়াল হলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক চলে যায় ওমর ফারুক। বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। যাকে কাছে পায় তাকেই মারধর করে। অকারণেই মানুষকে বিরক্ত করে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে তিন বছর ধরে শিকল পরিয়ে আটকে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘চোখের সামনে এ দৃশ্য দেখাও কষ্টের। জমিজমা বিক্রি করে সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করিয়েছি। ডাক্তার কইছে তাকে উন্নত চিকিৎসা করাইতে পারলে ভালাে হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। জমিজমা, টাকা-পয়সা নেই। তিনবেলা খেয়েই জীবন চলে না। চিকিৎসার জন্য এত টাকা পাবো কোথায়? তাই কী আর করবো! শিকল পরিয়ে আটকে রেখেছি।’

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) আমি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়ে তাকে দেখে এসেছি। তার নামে একটি কার্ড করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্যও সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমাম রাজী টুলু বলেন, ওমর ফারুকের শিকলবন্দি জীবন সম্পর্কে জানতে পেরে তার বাড়িতে গিয়ে দেখে এসেছি। তার চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয়ে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।